ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ছবি৷

হাওড়া: দোতলার ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে নগ্ন মহিলার দেহ। তাঁর সারা শরীর এবং মুখে আঁচড়ের দাগ। মঙ্গলবার দুপরে এই দৃশ্য দেখে চমকে ওঠেন সকলে। ঘটনাস্থল হাওড়ার ঘুসুড়ি নস্করপাড়ার কুলিলাইন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম ফুলেশ্বরী দেবী (৪০)। তিনি মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরের বাসিন্দা। স্বামী সুদামা দাস কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছেন। তিনি হনুমান জুট মিলের কর্মী ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে ফুলেশ্বরী দেবীর ছেলে সুরেশ্বর দাস নিখোঁজ হয়ে যান।

স্বামীর পেনশন নিতে দু’সপ্তাহ আগে হাওড়ার মালিপাঁচঘড়া থানা এলাকার ঘুসুড়ির নস্করপাড়া রোডের কুলিলাইনে ফুলেশ্বরী দেবী এসেছিলেন। তিনি সেখানে দোতলায় একাই থাকতেন। সেখানেই অন্য ঘরে থাকেন মৃতা মহিলার ভাসুরের ছেলে দীপক দাস (৩০)। তিনিও হনুমান জুট মিলের কর্মী।

মৃতার প্রতিবেশী কুলি লাইনের বাসিন্দা বাবলি দেবী বলেন, ফুলেশ্বরী এদিন দীর্ঘক্ষণ ঘরের দরজা খোলেননি। দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ প্রতিবেশী এক বাচ্চা ছেলে আমাকে এই বিষয়টি জানায়। আমি গিয়ে দেখি দরজা আটকানো ছিল না। পর্দা দিয়ে ঢাকা ছিল। পর্দা সরাতেই চমকে ওঠেন তিনি। দেখেন ঘর লণ্ডভণ্ড অবস্থায় রয়েছে। ঘরের পাশে পরে রয়েছে মৃতদেহ। তাঁর সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। ১৫ দিন আগে স্বামীর পেনশন নিতে তিনি এসেছিলেন।

এদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত মৃতার ভাসুরর ছেলে দীপক দাস বলেন, খবর পেয়ে ঘরে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি মৃতদেহ পড়ে আছে। এটা মার্ডার হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। এই ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ। এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে এখনও খুন বলতে চাইছে না পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মৃতার নাক, মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। হনুমান জুটমিলে তাঁর স্বামী কাজ করতেন। স্বামী বেশ কিছুদিন আগে মারা গিয়েছেন। ছেলে গত প্রায় আট বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। মহিলার মৃতদেহ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।

দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কেউ এখানে থাকেন না। মৃতার দূর সম্পর্কের এক ভাইপো এখানে থাকেন। তিনি এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ জানাননি। এটা খুন কিনা বোঝা যাচ্ছে না। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুন প্রমাণ হলে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হবে।