স্টাফ রিপোর্টার, ভাঙড় : গ্রামের চোদ্দ ফুট রাস্তার পরিবর্তে আট ফুট দিতে চেয়েছিল স্থানীয় কয়েকজন প্রমোটার। বাকি জায়গা অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু গ্রামে ঢোকার প্রধান রাস্তা ছোট হয়ে যাওয়ায় আপত্তি জানিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা।

অভিযোগ সেই কারণে স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতীকে নিয়ে এসে গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালায় ওই প্রোমোটাররা। গ্রামবাসীরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন৷ ফলে হামলা-পালটা হামলায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড়৷ এই ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। মারামারিতে জখম হন দুপক্ষের অন্তত এগারোজন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে উত্তেজনা ছড়ায় ভাঙড় থানার বৈরামপুর এলাকায়।

আহতদের প্রথমে ভাঙড়ের নলমুড়ি হাসপাতাল ও পরে কলকাতার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভাঙড় থানার পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। এদিন বৈরামপুর গ্রামে ঢোকার প্রধান রাস্তা চোদ্দ ফুটের থাকলেও তা দখল করে গ্রামের মানুষদের যাতায়াতের জন্য মাত্র আট ফুট রাস্তা দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় কয়েকজন প্রোমোটার ও জমির কারবারিরা। এতে আপত্তি জানান স্থানীয় গ্রামের মানুষজন। স্থানীয়দের অভিযোগ ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদের অনুগামী ননি, জয়, মিঠুরা এই রাস্তার জমি দখল করে তা একটি কোম্পানির কাছে বিক্রির চেষ্টা করছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই সেই জমি দখল করতে গেলে গ্রামের মানুষজন বাধা দেয়। সাময়িক ভাবে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এরপর জমি দখলকারীরা চলে গেলেও শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ ফের জমি দখল করতে আসে ওই প্রমোটার ও তাদের দলবল। তখন আবারও রুখে দাঁড়ান গ্রামের মানুষ। শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ।

এতেই দুপক্ষের অন্তত এগারোজন গুরুতর জখম হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি ভাঙড় থানার পুলিশ।