সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সোনাগাছিতে বাইসন? হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন। সোমবার সকাল ৭ টা নাগাদ উত্তরবঙ্গের সোনগাছি চা বাগানের বাটাগোলাই গ্ৰামে একটি ভারতীয় বাইসন বা গাউর ঢুকে পরে। বাইসনের অতর্কিত প্রবেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাগানে। শেষে বাইসনটিকে অজ্ঞান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মাল রেঞ্জের সদস্যরা। গরুমারা নর্থ রেঞ্জের বনকর্মীরাও পৌঁছে যান। চা বাগানের বাসিন্দাসহ প্রচুর লোক ভীড় করে গাউরটি দেখার জন্য। পরিস্থিতি দেখে এসএসবি জওয়ানরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ভীড় সামাল দিতে নেমে পড়েন।

খবর পাওয়ামাত্র স্পোরের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং বনদফতরের সঙ্গে উদ্ধারকার্যে নেমে পড়েন। গাউরটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি দিয়ে অচেতন করে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করার জন্য বনদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দলও তৈরি হয়ে থাকে। দু বারের প্রচেষ্টায় গাউরটিকে অচেতন করা হয় এবং উদ্ধারকার্য শুরু হয়।

বনদফতরের আধিকারিকগন জানান আপাতত কিছু সময় গাউরটিকে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সেটি সম্পূর্ণ সচেতন হয়ে গেলে চাপড়ামারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মাস দুয়েক আগে এই বাইসনের হামলায় গরুমারায় চার জন জখম হন। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর ভোরে মূর্তি নদীর পূর্ব দিকে জলঢাকা নদীর চরে একটি গন্ডারের দেহ পাওয়া যায়। তাঁর খড়্গটি কাটা ছিল। গরুমারা জাতীয় উদ্যান সূত্রে খবরে বলা হয়েছিল, গুলি করে গন্ডারটিকে মারা হয়নি। বিষ দিয়ে, নাকি অন্য কোনও উপায়ে মারা হয়েছে— ময়না-তদন্তের সবিস্তার রিপোর্ট পেলে সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব।

তবে বন দফতরের একটি সূত্র বলা হয়েছিল, গুলি করা হলে গন্ডারটি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ত। এ ক্ষেত্রে মনে হয়েছে, সে টলমল করতে করতে বেশ কিছুটা পথ চলেছিল। গন্ডারটিকে যেখানে মারা হয়েছিল, তা গরুমারা জাতীয় উদ্যানের অন্তর্গত।তবে আজকের ঘটনায় গতবারের দুই ঘটনাই এড়ানো গিয়েছে।