স্টাফ রিপোর্টার, রামপুরহাট: প্রথম বর্ষের ফর্ম ফিলাপকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ছাত্র সংঘর্ষে উত্তাল রামপুরহাট কলেজ। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৬ নভেম্বর থেকে পাসকোর্সের প্রথম বর্ষের ফর্ম ফিলাপ চলছে। সোমবার ছিল শেষ দিন। সেই মত প্রচুর ছাত্রছাত্রী ফর্ম ফিলাপের জন্য সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ, কিছু না জানিয়েই বিকেলে চারটের পর ফর্ম ফিলাপের কাউন্টার বন্ধ করে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। তখনও লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় শখানেক পডুয়া। এব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউনির্ভাসিটি ফর্ম ফিলাপের জন্য দুদিন বাড়িয়েছে৷ তা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পড়ুয়াদের আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু জনা কুড়ি ছাত্র এদিনই ফর্ম নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।

অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বিক্ষোভরত ছাত্ররা কলেজ চত্বরে থাকা দুটি বড় ডাস্টবিনে আগুন লাগিয়ে দেয়। একটি বিভাগের তালা বন্ধ দরজা ভাঙার চেষ্টা করে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। এই নিয়ে মঙ্গলবার কলেজ খুলতেই তিন ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করে কিছু যুবক।

আরও পড়ুন : ভূত নই, জলজ্যান্ত জীবিত একজন মানুষ…! বলছেন খোদ প্রেসিডেন্ট

আহত ছাত্র অভিজিৎ দত্ত বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ছটা নাগাদ বিক্ষোভ ছেড়ে আমি বাড়ি চলে যায়। কারা ভাঙচুর বা আগুন ধরিয়েছে আমি বলতে পারব না। এদিন ফর্ম ফিলাপ করতে এলে আমাদের তিনজনকে সিসি ক্যামেরার কভারেজ থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর বহিরাগতরা। কলেজের জিএস রকি আলিও লাঠি পেটা করে।’

মারধররের খবর পেয়ে তারাপীঠ থেকে ছুটে আসেন অভিজিতের মা মৌসুমি দত্ত এবং ছাত্র সংসদের কালচার অ্যান্ড সোশ্যাল বিভাগের সম্পাদক মান্তু চক্রবর্তী। তাঁরা কলেজের অধ্যক্ষ ও কৃষিমন্ত্রীর কাছে এব‍্যাপারে হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

মৌসুমিদেবী বলেন, ‘তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা মান্তুর নাম বলাতে ছেলেকে বেশি মারধর করে জিএস ও তাঁর দলবল। কলেজ কর্তৃপক্ষের সামনে এঘটনা ঘটলেও কেউ ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি।’ মান্তু বলেন, ‘অভিজিৎ কোন দোষ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেক। এভাবে কেন মারধর করা হল।’

কৃষিমন্ত্রী ওই ছাত্র ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে সব শুনে থানায় এফআইআর করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অধ‍্যক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এদিকে জিএস রকি আলি বলেন, ‘সোমবার থেকে ওই ছাত্ররা কলেজে বিশৃঙ্খলা করে আসছে বলে শুনেছি। তবে আমি ওদের কাউকে মারিনি উল্টে তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করি। কারা মারধর করেছে তাঁদের আমি চিনিও না।’

এব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ সুশান্ত বর্ধন বলেন, ‘যেহেতু ফর্ম ফিলাপের টাকা ব্যাঙ্কে পাঠাতে হয় সেহেতু নিরাপত্তার কথা ভেবে সোমবার পাঁচটার পর ফর্ম জমা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইউনির্ভাসিটি আরও দুদিন বাড়িয়েছে জানিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পড়ুয়াদের বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য বলি। কিন্তু কিছু ছাত্র থেকে গিয়েছিল। এদিন কলেজে এসে শুনছি ডাস্টবিন আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে পরিচালন সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে বিধিব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।’