স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: সকাল থেকে জলপাইগুড়িতে আকাশ কালো করে এসেছিল৷ সঙ্গে প্রবল ঝড় উঠেছিল৷ কালবৈশাখীর এই দাপটে লন্ডভন্ড হয়েছে জেলার একাধিক জায়গা৷ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশাল অঙ্কের৷

জেলায় সদ্য শুরু হওয়া বইমেলা কালবৈশাখী গ্রাস করেছে৷ ভেঙে পড়েছে বিশাল দুটি প্রবেশদার৷ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বিদ্যুৎ পরিষবা৷ নষ্ট হয়েছে প্রায় ২৪ টি সিসিটিভি ক্যামেরা৷ বৃষ্টির জলে ভিজে নষ্ট হয়ে বিপুল সংখ্যক বই৷ এই পরিস্থিতিতে মেলা চালানো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে প্রকাশকরা৷

কলকাতার প্রকাশক সংস্থার সমর নস্কর বলেন, আচমকা ঝড় বৃষ্টিতে সমস্ত স্টল মিলিয়ে প্রায় পনেরো লক্ষ টাকার বই নষ্ট হয়েছে৷ অথচ মেলা কমিটির পক্ষ থেকে তারা তেমন কোনও সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ যদিও মেলা কমিটির কর্মকর্তারা বলেন, সবকিছু ঠিক করে যেভাবেই হোক বইমেলা ফের শুরু করা হবে।

মেলা কমিটির পক্ষ থেকে পিন্টু মণ্ডল বলেন, আচমকা এই ঝড় বৃষ্টিতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন দিনে যে কালবৈশাখী ঝড় উঠবে তা বুঝতে পারেননি কেউ। এজন্য বই বিক্রেতাদের পাশাপাশি মেলা কমিটির কর্মকর্তারাও কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন মেলা কমিটি।

পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেলার বোয়ালমারী নন্দনপুর, খরিয়া, বাহাদুর, পাতকাটা, বারোপাটিয়া, পাহারপুর জিপির বেশ কিছু এলাকাজুড়ে। ঝড়ে কৃষি ফসলের সঙ্গে সঙ্গে বড়ো বড়ো গাছ পালা ভেঙে পরেছে৷ যার জেরে বেশ কিছু কাচা বাড়িঘর ও বাড়ির বেড়া, স্কুলেরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানান জলপাইগুড়ি সদর বিডিও তাপসী সাহা।

সাধারণ মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে চরম দুর্ভোগের পরে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ সরকার, নির্মল সরকাররা বলেন, এই ঝড়ে তাঁদের বাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়েছে৷ ফলে বাড়ির একাংশ ক্ষতি হয়েছে৷ ঝড়ের দাপটে জলপাইগুড়িবাসী কিছুটা আতঙ্ক গ্রস্ত হয়ে পড়েছে।