স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রণক্ষেত্র কলেজ স্ট্রিট, বিধান সরণি৷ বিজেপি টিএমসিপি সংঘর্ষ কলেজ স্ট্রিটের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে৷ পুলিশের সামনেই ধস্তাধস্তি দুই দলের সমর্থকদের৷

বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে তিনটি বাইকে ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন৷ আগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি বিধান সরণিতে৷ চলে ইঁট বৃষ্টি৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠি চার্জ করে পুলিশ৷ বর্তমানে বিধান সরণি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ মোতায়ের করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ বাহিনী৷ পরে পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলে যান৷ সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে চার জনকে আটক করা হয়েছে৷

এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই ধর্মতলা, নির্মলচন্দ্র স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, বিধান সরণি দিয়ে রোড শো করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শা৷ তাঁর রোড শো ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় কলেজ স্ট্রিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে৷ গেরুয়া শিবিরের সভাপতিকে কালো পতাকা দেখাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনেই দাঁড়িয়েছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকরা৷

অমিত শাহের রোড শো কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছলে উত্তেজনা বাড়ে৷ পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসের মধ্যে আটকে রাখে টিএমসিপি সমর্থকদের৷ এরপরই রাজ্যের শাসক দলের ছাত্র শাখার সমর্থকরা অভিযোগ করে বলেন গেটের বাইরে থেকে তাদের লক্ষ্য করে ইঁট, পাটকেল ছোঁড়া হচ্ছে৷ বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আঘাত-ও পান৷

এরপরই পরিস্থিতি জটিল হয়৷ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিজেপি ও টিএমসিপি সমর্থকরা৷ শুরু হয় ইঁট বৃষ্টি৷ পুলিশের সামনেই রাস্তার ব্যারিকেড উঠিয়ে পরস্পর আক্রমণ শুরু করে৷ নিমিষে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে কলেজ স্ট্রিট৷

এরপর তা ছড়িয়ে পরে বিধান সরণিতে৷ বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিজেপি ও টিএমসিপি৷ বিজেপির অভিযোগ টিএমসিপি নিয়ন্ত্রিত বিদ্যাসাগর কলেজের ভিতর থেকে প্রথমে হামলা হয়৷ তাদের সমর্থকদের ধরে মারধর করা হয়৷ ইঁট ছোড়া হয়৷ পালটা টিএমসিপির দাবি, হামলা হয় গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকেই আগে৷ সংঘর্ষের জেরে তিনটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ ভেঙে দেওয়া হয় বিদ্যাসাগর কলেজের মধ্যে মণিষীর মূর্তি৷ ভাঙচুর চালানো হয় কলেজের মধ্যে৷ রক্তাক্ত হয় বেশ কয়েকজন৷ ভেঙে দেওয়া হয় কলেজের মূল ফটক৷

এই হামলার জন্য পুলিশ ও তৃণমূলকে দায়ী করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ পুলিশের সামনেই তাদের উপর হামলা হল কি করে? প্রশ্ন তোলেন অমিত শাহ৷ পুলিশ বিভ্রান্ত করে রাজ্যের শাসক দলকে এই হামলা চালাতে সাহায্য করেছে বলে দাবি তাঁর৷ মানুষ ইভিএমে এই হামলার জবাব দেবে বলে আশা তাঁর৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বহিরাগতদের নিয়ে মিছিল করে সংঘর্ষ সৃষ্টি করেছে বিজেপি৷ বজবজের সভা থেকেই শিক্ষামন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে যাওয়ায় নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বলেন, ‘‘বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙেছে ওরা৷ এটা বাংলার ঐতিহ্যে আঘাত৷ হেরিটেজের গায়ে হাত দিয়ে আমি ছেড়ে কথা বলব না৷’’ পরে বিদ্যাসাগর কলেজে পৌঁছান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ জানান, ‘‘বিজেপি বাংলার পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চাইছে৷ এদিনের ঘটনা তার প্রমাণ৷ বিদ্যাসাগর কলেজের মধ্যেকার মণিষীর মূর্তি প্রসঙ্গে বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পার্থবাবু৷