কলকাতা: গতকালের পর আজও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বই মেলায়৷ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্টলের সামনে বিক্রি হচ্ছে হনুমান চল্লিশা৷ আর তা নিয়েই তৈরি হল বিতর্ক৷ আজ রবিবার দুপুরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা বইমেলা৷

আজ কলকাতা বই মেলার শেষ দিন৷ তার উপর আবার রবিবার ছুটির দিন৷ স্বাভাবিকভাবেই এদিনের মেলায় ছিল উপচে পড়া ভিড়৷ তার মধ্যে ফের উত্তেজনায় কিছুটা তাল কাটল বই প্রেমী মানুষের৷

বই মেলা শুরু হওয়ার আগেই বইমেলায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরোধিতার আঁচ পড়তে পারে, এমনটা আশঙ্কা করেছিল প্রশাসন৷ তার জন্য বইমেলায় অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন রাখা হয়েছিল৷ তারপরও মেলার শেষ দু’দিন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বইমেলায়৷

গতকালও কলকাতা বইমেলায় তুমুল হট্টগোল বেধেছিল৷ বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাকে ঘিরে বইমেলায় প্রবল বিক্ষোভ পড়ুয়াদের৷ রাহুল সিনহাকে ঘিরে চলে গো-ব্যাক স্লোগান৷ বইমেলা চত্বরেই এরপর বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন পড়ুয়ারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম দশা হয় পুলিশের। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছিল পুলিশ।

বইমেলাতেও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরোধিতার আঁচ। প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন হাতে প্রবল বিক্ষোভ পড়ুয়াদের। শনিবার বইমেলায় যান বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। রাহুল সিনহা যেতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে থাকেন পড়ুয়ারা। এদিন রাহুল সিনহার সঙ্গেই বেশ কিছু বিজেপি কর্মীও যান বইমেলায়। বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মীরা।

বইমেলায় এই ঘটনার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মেলা প্রাঙ্গণে। বইমেলায় আসা বহু বইপ্রেমীও ভিড় করেন ঘটনাস্থলে। বিক্ষোভ ঠেকাতে হিমশিম দশা হয় পুলিশের। পড়ুয়াদের সংযত হতে বলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীরা। এমনকী মাইকিং করেও বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের সংযত হতে আবেদন করেন পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশের আবেদনে সাড়া না দিয়েই চলে প্রবল প্রতিবাদ। এরই মধ্যে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তুমুল বচসা শুরু হয় বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের। মুহূর্তে সেই বচসা থেকে শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি। পুলিশের সামনেই বিক্ষোভকারী পড়ুয়া ও বিজেপি কর্মীরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।

এদিন কলকাতার একাধিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া বইমেলার বিক্ষোভে সামিল ছিলেন। বিক্ষোভে ছিলেন বেশ কিছু গণ সংগঠনের সদস্যরাও। প্রবল বিক্ষোভের জেরে এদিন সন্ধেয় বইমেলার ৭ নং গেট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। বইমেলা থেকে বেরনো ও বইমেলায় ঢোকার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয় বইপ্রেমীদের মধ্যে।

বিক্ষোভকারীদের তৃণমূলের স্তাবক বলেও কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা। একইসঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির পক্ষেই সওয়াল করেন রাহুল সিনহা।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা