স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ। বিবাদ আর কিছুই নয় গ্রামে গুজব রটে যায় যে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছে। আর তা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে গুলি মারপিট ও হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন থানা এলাকায়।

ঘটনায় রফিক মিয়া নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন আরও তিনজন। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে তপন থানার রামপাড়া চেঁচড়া পঞ্চায়েতের জোরমুল গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে জোরমুলের গ্রামেরই বাসিন্দা রাকিব মিয়া ও মফেজ মিয়ার। সম্পর্কে নিকট আত্মীয় দুইজনেই যথাক্রমে তৃণমূলের জেলাসভাপতি বিপ্লব মিত্র ও মন্ত্রী বাচ্চু হাসদা গোষ্ঠীর লোক বলে এলাকায় পরিচিত।

সম্প্রতি এলাকায় গুজব শুরু হয় যে গোষ্ঠী কোন্দলে জেরবার তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন মফেজ মিয়া ও তাঁর অনুগামীরা। অভিযোগ এই গুজবেই রবিবার রাতে জোরমুল বাজারে মফেজকে একা পেয়ে প্রথমে মারধর ও পরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় রাকিব মিয়া। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

এই ঘটনায় মফেজের অনুগামীরা ছুটে এসে রাকিবকে ধরে মারধর শুরু করলে। জখম অবস্থায় কোন মতে প্রাণ বাঁচিয়ে সে পালিয়ে যায়। এদিকে রাকিবকে খুন করা হয়েছে এমন গুজবে তার লোকেরা মফেজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ও গুলিও চালাতে থাকেন। ভেতর থেকে মফেজের ভাই রফিক মিয়া বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁকে মাটিতে ফেলে প্রথমে গুলি ও পরে ধারালো অস্ত্রের কোপ মেরে পালিয়ে যান তাঁরা।

ঘটনাস্থলেই মারা যান রফিক। আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে আশপাশের আরও পাঁচটি বাড়ি। খবর পেয়ে দমকলের দুইটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়। গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে মফেজ ও রাকিব দুইজনেই সম্পর্কে আত্মীয়। জমি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিবাদ বহুদিনের। এর আগেও দুই তরফের লোকেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। রবিবারের ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও জখম হয়েছেন কয়েকজন। তবে রবিবারের ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্ত।

ঘটনায় জড়িত মোট ৪০জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে মৃতের পরিবার। যদিও সোমবার বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠি জানিয়েছেন যে ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কোন কারণ এখনও জানা যায়নি। বহুদিনের জমিজমা বিষয়ক পুরাতন শরিকি বিবাদের কারণেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনায় জড়িত এপর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।