দেশ স্বাধীন হলেও তার পরেও বেশ কয়েক বছর ধরে বাজেট পেশের ব্যাপারে পুরনো প্রথাকেই অনুসরণ করা হত৷ ব্রিটিশ আমল থেকে বাজেট পেশের সময় ছিল বিকেলের দিকে যাতে বৃটেনে দুপুরে বাজেট পেশ হওয়ার পর ভারতে তা পেশ করা হয়৷ এর ফলে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন বাজেট পেশ করা হত বিকেল পাঁচটায়৷ কিন্তু তারপর থেকে সময় পরিবর্তন করে তা করা হয় দুপুরে৷ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের হয়ে অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা প্রথম ২০০১ সালে দুপুর ১১টায় বাজেট পেশ করেন৷

বাজেটের দিন পরিবর্তন হল ২০১৭ সালে৷ তার আগে পর্যন্ত কেন্দ্রের নির্বাচনের বছর না হলে প্রথাগত ভাবে বাজেট পেশ করা হত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কাজের দিনে৷ অর্থাৎ সেটা পড়ত ২৮ অথবা ২৯ ফেব্রুয়ারি৷ ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ঠিক করে বাজেট পেশ হবে এবার থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ৷

তখন অর্থ মন্ত্রক প্রথমে ভেবেছিল ফেব্রুয়ারির শেষের বদলে এ বার জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বা ৩১ জানুয়ারিতে সাধারণ বাজেট পেশ করবে। কারণ ফেব্রুয়ারির শেষে বাজেট পেশ করার পর নতুন অর্থবর্ষের আগে হাতে তেমন সময় থাকে না তা নিয়ে আলোচনা এবং পাশ করার জন্য৷ দেখা যায় পুরো বাজেট বিল পাশ হতে এপ্রিল-মে হয়ে যায়। সেজন্য অর্থ বর্ষের প্রথম দু’মাসের খরচ চালাতে আলাদা করে আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হত৷ ফলে বাজেট পেশের দিন এগিয়ে আনার কথা ভাবা হয় ৷ তারপরে ঠিক হয় ১ফেব্রুয়ারিতে তা করার৷

তবে শুধু বাজেট সময়ের পরিবর্তনই নয় সাধারণ বাজেটের পরিধি বেড়েছে ৷ কারণ ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ বা আর্থিক বাজেটের দুদিন আগে সংসদে পেশ হত আলাদা করে রেল বাজেট ৷ আর এই দুই বাজেট পেশের মাঝের দিনে পেশ হত আর্থিক সমীক্ষা৷ এখনও সাধারণ বাজেটের আগের দিন আর্থিক সমীক্ষা পেশ হয় ৷ কিন্তু ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন মোদী সরকার সাধারণ বাজেটের সঙ্গে রেল বাজেট মিশিয়ে দেওয়াকে অনুমোদন করে৷ ফলে ২০১৭ সালে থেকে আলাদা করে রেল বাজেটের কোনও অস্তিত্ব থাকল না ৷ তার আগে অবশ্য ৯২ বছর ধরে আলাদা করে রেল বাজেট পেশ করা হয়েছে ৷