স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যপালের পরামর্শ সরকারের প্রয়োজন নেই৷ এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷ রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে চন্দ্রিমা বলেন, “উনি আইনজীবী ছিলেন। তাই ক্লায়েন্টকে পরামর্শ দেওয়ার স্বভাব যায়নি। রাজ্য সরকার ওনার ক্লায়েন্ট নয়। রাজ্য সরকারকে ওনাকে কোনও পরামর্শ দিতে হবে না৷”

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিবাদ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাজের বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কখনও কটাক্ষ, কখনও মাঠে নেমে সরাসরি বিরোধিতা, কখনও আবার সৌজন্য, রাজ্যপালের এমন ভূমিকায় এই মুহূর্তে ত্রস্ত তৃণমূল নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, এবার রাজ্যপালের মন্তব্যের বিরোধিতা করতে আসরে নামবে তৃণমূল।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “মানুষের রায়ে সরকার চালান মুখ্যমন্ত্রী। কার চিঠির উত্তর দেবেন, কার দেবেন না, তা ঠিক করবেন মুখ্যমন্ত্রীই। শিক্ষা নিয়ে বাংলায় কোনও রাজনীতি হয় না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জগদীপ ধনখড় রাজ্য সরকারের উদ্দেশে ট্যুইটারে লিখেছিলেন, ‘রাজ্যপাল ও আচার্য, দুই ক্ষেত্রেই সংবিধান ও বিধি মেনেই পদক্ষেপ করি আমি ৷’  ট্যুইটে তিনি আরও লিখেছেন,‘আচার্য-সরকারের মধ্যে বিগ বস হওয়ার লড়াই চলছে ৷ আচার্য হিসেবে লড়াই চাই না ৷ ক্যাম্পাসের পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে ৷ রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছি ৷ কেন্দ্রের সাহায্য লাগলে জানাতে বলেছি’ ৷ এর প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন চন্দ্রিমা৷

হেলিকপ্টার ইস্যুতেও মুখ খুলেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, হেলিকপ্টারের খরচ বহন করেন রাজ্যের মানুষ। তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে রাজনীতির বাজারে বেরিয়ে পড়বেন, তা হয় না। তাঁদের জানাতে হবে কী কারণে হেলিকপ্টার প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছিলেন, বুলবুল কবলিত এলাকা পরিদর্শনে।”

উল্লেখ্য, ফারাক্কার এসএনএইচ মহাবিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তীতে সস্ত্রীক যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের৷ মুর্শিদাবাদে যাওয়ার জন্য রাজ্যের কাছে হেলিকপ্টার চেয়েছিলেন রাজ্যপাল৷ কিন্তু রাজ্যপালের সেই আর্জি খারিজ করে দেয় নবান্ন৷ বৃহস্পতিবার প্রেস বিবৃতি দিয়ে একথা জানানো হয়৷

রাজভবনের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, ফারাক্কা থেকে রাজ্যপালের যাওয়ার কথা বীরভূম সার্কিট হাউজে। সেখান থেকে বর্ধমান সার্কিট হাউজ হয়ে রাত দশটায় রাজভবনে ফেরার কথা। তাই ভোর পাঁচটার সময়ে হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সন্ধে পর্যন্ত নিরুত্তাপ বলে অভিযোগ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে। সেখানে লেখা হয়েছে, এক দিনে ৩০০ কিলোমিটার যাতায়াত করাটা মুশকিল। তাই হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছিল। রাজ্যপালের প্রেস সচিব মানব বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার জানিয়েছে হেলিকপ্টার দেওয়ার মতো উপযুক্ত পরিস্থিতি নেই।রাজ্যের কাছ থেকে হেলিকপ্টার চেয়ে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সড়কপথেই ফারাক্কায় যান রাজ্যপাল৷