স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে নেতাজি জয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিতে উঠতেই ভেসে এল ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ না দিয়েই পোডিয়াম ছাড়লেন। এই ঘটনার পর বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিলেন মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷

ভিক্টোরিয়ার ঘটনার পর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি জায়গাটাকে কীভাবে রাজনীতিকরণ করা হল এটা তারই দৃষ্টান্ত। সরকারি অনুষ্ঠানে এভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান মেনে নেবে না তৃণমূল৷ আমরা
ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে এই অপমানের শোধ নেব৷

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিবস উপলক্ষে ‘‌পরাক্রম দিবস’‌–এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সামনেই সৃষ্টি হল এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। শনিবার বিকেল ৫টা নাগাদ সবে বক্তব্য শেষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল। এর পরের বক্তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে নেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। তিনি মঞ্চের চেয়ার ছেড়ে পোডিয়ামের দিকে এগোতেই সামনের সমবেত জনতার একাংশ ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করে। যা শুনে দৃশ্যতই বিরক্ত হন মমতা। খানিক বিব্রত ঘোষক বলেন, ‘‘আপনারা একটু শান্ত হোন। ওঁকে (মমতাকে) কিছু বলতে দিন।’’ কিন্তু তত ক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। ক্ষুব্ধ মমতা পোডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমেই হিন্দিতে বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের একটা শালীনতা থাকা উচিত। এটা কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়। এটা সমস্ত দলেরই কর্মসূচি। জনতার কর্মসূচি।’’

মমতা বলেন, ‘‘আমায় এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু কাউকে আমন্ত্রণ করে অসম্মান করাটা শোভনীয় নয়। এর প্রতিবাদে আমি এখানে কিছু বলছি না।’’ শেষে ‘‌জয় হিন্দ’‌, ‘‌জয় বাংলা’‌ বলে নিজের আসনে গিয়ে বসেন ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যখন এই ঘটনা ঘটছে, তখন সেখানে নীরবে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। মমতার পরেই বলতে উঠে মোদী তাঁর ভাষণ শুরু করেন ‘বহেন মমতা’জি’ বলে। কিন্তু তাতেও গোটা অনুষ্ঠানের সুর ফিরে আসেনি।

এই ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, নেতাজির জন্মদিনকে নিয়ে চূড়ান্ত রাজনীতি করল গেরুয়া শিবির৷
ভিক্টোরিয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, এটা অসভ্যতার চূড়ান্ত সংস্কৃতির নিদর্শন৷ বাংলার সংস্কৃতি জানে না বলেই এদের বহিরাগত বলা হয়৷ তিনি বলেন, একশ্রেনীর চতুষ্পদ যাঁরা নেতাজির জন্মদিনে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিলেন তাঁরা জানেনই না এদিনটা জয় হিন্দ, জয় নেতাজি বলার দিন৷ এটা গুটখা কালচার নয়৷ যা ঘটল তা বহিরাগত অপসংস্কৃতির নিকৃষ্ট নিদর্শন৷ আর বহিরাগত তত্ত্বটা অভিধানগত নয়, স্পিরিটগত সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।