নয়াদিল্লি: ২০১৯-এ চাঁদের মাটি ছোঁবে ভারত। এমন জল্পনা আগেই তৈরি হয়েছিল। তবে এবার দিনক্ষণ জানিয়ে দিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।

বুধবার ইসরোর তরফ থেকে দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতীয় মহাকাশ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর চাঁদের মাটি ছোঁবে ভারতের মহাকাশযান।

ইসরোর তরফে বুধবার জানানো হয়েছে, আগামী ৯ জুলাই থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপন করা হবে চন্দ্রযান- ২। জিএসএলভি মার্ক থ্রি রকেটে মহাকাশে পাঠানো হবে ওই যানটিকে।

চন্দ্রায়ন-২- এর তিনটি মডিউল রয়েছে- অরবিটার, ল্যান্ডার ও রোভার। ভিতরে থাকবে রোভার। অরবিটার, ল্যান্ডার থাকবে একসঙ্গে। ল্যান্ডারটি চাঁদের মাটিতে অবতরণের পর খুলে যাবে দরজা। তখন ল্যান্ডারের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসবে রোভার।

রোভারটি আসলে একটি গাড়ি। যা পৃথিবী থেকে রিমোট কন্ট্রোলে চালানো যায়। ওই গাড়ি চাঁদের মাটিতে চালিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন বিজ্ঞানীরা। ল্যান্ডারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিক্রম’। রোভারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজ্ঞান’।

গত কয়েক বছরে মহাকাশ গবেষণায় নজির তৈরি করেছে ভারত। চন্দ্রযান – ১-এর সফল অভিযানের পর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে প্রথম চেষ্টায় মঙ্গলের কক্ষে যান পাঠায় ভারত।

চলতি বছরের শুরুতেই চন্দ্রাভিযানের কথা ছিল। ৩ জানুয়ারি ছিল ডেডলাইন। কিন্তু সফল হয়নি ইসরো। চন্দ্রায়ন অভিযান সফল হয়নি ভারতের। কারণ ডিজাইনে অনেক পরিবর্তন আনতে হয়। পাশাপাশি ল্যান্ডারটিতেও কিছু সমস্যা ছিল।

ভারতের মহাকাশযান পৌঁছে যাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। সেখানেও এখনও পর্যন্ত কোনও মহাকাশযান পৌঁছতে পারেনি।

গত মাসেই চাঁদের মাটিতে অবতরণের চেষ্টা করেছিল ইসরায়েলের একটি বেসরকারি মহাকাশসংস্থা। বেসরকারি উদ্যোগে চাঁদের মাটি ছোঁয়ার এটাই ছিল প্রথম চেষ্টা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের যান্ত্রিক গোলযোগ সেই অভিযান সফল হয়নি।

রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চন্দ্রায়ন-২ অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছিল ইসরো। কথা ছিল রাশিয়া ল্যান্ডার সাপ্লাই দেবে। তবে শেষ মুহূর্তে সেই চুক্তি বাতিল হয়ে যায়।

চন্দ্রায়ন ১, ২০০৮ সালে শ্রীহরিকোটা থেকে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। চাঁদের পিঠে খনিজ, রাসায়নিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের নিখুঁত ছবি তুলে আনতে চন্দ্রায়ন ১ পাঠিয়েছিল ভারত।