নয়াদিল্লি: সফট ল্যাণ্ডিংয়ের কথা ছিল৷ তা হয়নি৷ নামার কিছু মুহূর্ত আগে চাঁদের মাটিতে জোরালোভাবে ধাক্কা খেয়ে আছড়ে পড়ে চন্দ্রায়ন ২য়ের ল্যাণ্ডার বিক্রম৷ ৭ই সেপ্টেম্বর সফট ল্যাণ্ডিং হলে, সফল হত ভারতের লুনার মিশন চন্দ্রায়ন ২৷ তবে দুর্ভাগ্যবশত তা হয়নি৷ এমনই তথ্য দিচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা৷

শুক্রবার চাঁদের সেই অন্ধকারময় প্রান্তরের দুটি ছবি পাঠায় নাসা৷ হাই রেজোলিউশন ছবিদুটি তুলেছে নাসার লুনার রিকনাসান্স অরবিটার ক্যামেরা বা এলআরওসি৷ এলআরওসি এর আগে ছবি পাঠিয়েছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর৷ যেখানে আপাতত লুনার নাইটস চলছে৷

তবে নাসার পাঠানো সাম্প্রতিক ছবিদুটি বলছে একেবারে শেষমুহূর্তে ইসরোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে চাঁদের বুকে সজোরে আছড়ে পড়েছিল ল্যাণ্ডার বিক্রম৷ তবে ঠিক কোথায় আছড়ে পড়ে বিক্রম, সেই জায়গার সঠিক ছবি এখনও তোলা সম্ভব হয়নি৷

যে জায়গাটির ছবি নাসা পাঠিয়েছে, তার ১৫০ কিমির মধ্যেই কোথাও রয়েছে বিক্রম, বলে মনে করছে নাসা৷ তাই এখনই বিক্রমের ছবি তোলার চেষ্টা ছাড়ছে না এলআরওসি৷ মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানাচ্ছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কোনও প্রান্তে এখনও পড়ে রয়েছে বিক্রম৷

১৪ দিনের জন্য ঘন কালো অন্ধকারে ঢেকে থাকে চাঁদের দক্ষিণ মেরু, যা লুনার নাইটস নামেই পরিচিত৷ তখন সেখানে তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ বিক্রমের সোলার প্যানেলও কাজ করবে না এই তাপমাত্রায়৷ ফলে কার্যক্ষমতা হারাবে বিক্রম৷ ফের ১৪ই অক্টোবর চাঁদের ওই পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে উড়বে নাসার লুনার রিকনাসান্স অরবিটার৷ তখন শেষ হবে লুনার নাইটসও৷ শেষ চেষ্টা তখনই করা হবে, যাতে বিক্রম ল্যাণ্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়৷

চাঁদে ল্যান্ড করার সময় ঠিক কী হয়েছিল বিক্রমের, সে ব্যাপারে একটি বিস্তারিত বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। অরবিটার থেকে চাঁদের দিকে বিক্রমের যেতে সময় লাগার কথা ছিল ১৫ মিনিট। যে সময়টাকে ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন ’15 minutes of terror’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। আর সেই ১৫ মিনিটেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১১ মিনিট পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। রিপোর্ট বলছে, এর ঠিক পরই বিক্রম ল্যান্ডারটি সামান্য ঘুরে যায়। তাতে চাঁদের পৃষ্ঠের কিছুটা ছবি উঠে আসে। আসলে নামার জায়গাটি কেমন, কোথায় ঠিকভাবে ল্যান্ডিং করা সম্ভব, সেটা বুঝতেই খানিকটা ঘুরে যায় বিক্রম।

এরপর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আচমকা একটা ডিগবাজি খায় বিক্রম। আর তাতেই সব গণ্ডগোল হয়ে যায় বলে মনে করা হচ্ছে। ডিগবাজি খাওয়ায় ল্যান্ডারটি পুরোটাই উল্টে যায়। ল্যান্ডারের সঙ্গে ছিল একটি ইঞ্জিন, যা তাকে সফট ল্যান্ডিং করতে সাহায্য করত। কিন্তু সেটি উপরের দিকে উঠে যায়। ফলে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটে। যে ইঞ্জিন আস্তে আস্তে চাঁদের মাটিতে নামিয়ে দিত বিক্রমকে, সেটাই উল্টে গিয়ে বিক্রমকে জোরে ধাক্কা মারে, যাতে সেটি চাঁদের মাটিতে পড়ে যায়।