ভুবনেশ্বর: চাঁদের বুকে নেমে এসেছে রাত। বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগের সব সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে পুরোদমে কাজ করছে চন্দ্রযান-২ -এর অরবিটার। ৯৮ শতাংশ লক্ষ্যপূরণে সফল হয়েছে অরবিটার, শনিবার এমনটাই জানালেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিবান।

এদিন আইআইটি ভুবনেশ্বেরে কনভোকেশন সেরিমনিতে উপস্থিত হয়েছিলেন কে সিবান। সেখানে গিয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দুটি ক্ষেত্রে সাফল্য আসা দরকার। আর অরবিটারটি দুটি ক্ষেত্রেই প্রায় সফল । তাই এটি ৯৮ শতাংশ সফল বলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

২০২০-তে আরও একবার চন্দ্র অভিযানের সম্ভাবনার কথা জানান কে সিবান। তিনি বলেন, এই বিষয়ে কথাবার্তা চলছে, এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আগে ল্যান্ডার বিক্রমে কী সমস্যা হয়েছে, সেটা বোঝার চেষ্টা চলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে আগামী সাড়ে সাত বছর ধরে কাজ করবে অরবিটার।

অরবিটারটির নাম চন্দ্রযান-২। একটি বাক্সের মত দেখতে একটি জিনিস। যার ওজন ২৩৭৯ কেজি। এই অরবিটার থেকে ১০০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ জেনারেট করতে পারে এই অরবিটার। ল্যান্ডারের সঙ্গে ও ভারতের স্পেস নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে এটি। অরবিটারের মধ্যে একাধিক উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন জিনিস।

রয়েছে একটি ম্যাপিং ক্যামেরা, একটি স্পেকট্রোমিটার, একটি সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার। একটি ইনফ্রারেড স্পেকট্রোমিটার, একটি এক্স-রে স্পেকট্রোমিটার ও একটি সোলার এক্স রে মনিটর। একটি সাড়ে ৭ বছর চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ছবি পাঠাবে ভারতে।

জানা গিয়েছে, চাঁদের দিকে যাওয়ার সময় অরবিটারের যে জ্বালানি খরচ হওয়ার কথা ছিল, তা কিছুটা সঞ্চয় করা সম্ভব হয়েছে। তাই ইসরো অরবিটারের আয়ু বাড়াতে পেরেছে। গত ২২ জুলাই চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হয় চন্দ্রযান-২। তখন অরবিটারে ছিল ১৬৯৭ কেজি জ্বালানি। বর্তমানে তাতে রয়েছে ৫০০ কেজি জ্বালানি। যা দিয়ে সাত বছর ঘুরতে পারবে অরবিটারটি।

গত ২২ জুলাই ‘বাহুবলী’ রকেট অর্থাৎ জিএসএলভি মার্ক ৩-তে চন্দ্রযান পাঠানো হয় চাঁদের উদ্দেশ্যে। শ্রীহরিকোটা থেকে রওনা হওয়ার পর চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে যায় এটি। ২০ অগস্ট চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে চন্দ্রযান। ১ সেপ্টেম্বর চাঁদের অন্তিম কক্ষপথে প্রবেশ করে। তখন চাঁদ থেকে এই স্পেসক্রাফটের দূরত্ব ছিল ১০০ কিলোমিটার।