প্রসেনজিৎ চৌধুরী: মন জোছনায় গল্পের উঠোন পেরিয়ে তারা ঝিকমিক মহাকাশের পথ বেয়ে আরও এক নতুন উপন্যাসের খোঁজ শুরু হল৷ চাঁদকে কাছে পাওয়ার দুরন্ত চেষ্টা৷ শনিবার চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে নামবে চন্দ্রযান-২ ৷ সফল অবতরণ হলেই মহাকাশ গবেষণায় অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা, চিনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারতের নামে লাগবে জোছনার পরশ৷ রূপকথার দুনিয়া, গল্পে কাহিনিতে, গানে চাঁদকে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তার বেড়া কেটেছিল সেই ষাটের দশকে ১৯৬৯ সালে৷

মানুষ পা রেখেছিল চাঁদের দুনিয়ায়৷ তারও পরে বহু মহাকাশ অভিযান হয়েছে কিন্তু সেই একবার এবং শেষবার চাঁদের মাটিতে পা রাখার নজির ভাঙা যায়নি৷ যে পশ্চিমি দুনিয়া বরাবর চাঁদের বুকে মানুষের পা রাখার দাবি নিয়েছে তার সঙ্গে পাল্লা দিতেই এই বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা সফল করার পথে ভারত৷ বিশ্লেষণে উঠে আসছে, ভারতের চন্দ্রযান অভিযানের দিকে লক্ষ্য রাখছে মহাকাশ গবেষণার প্রথম সারির বাকি দেশগুলি৷ এই চন্দ্রাভিযানের সফলতা চাঁদের দক্ষিণ মেরুকে পরবর্তী সময়ে আবারও অভিযানের জন্য বেছে নেবে নাসা৷ এক চন্দ্রদিবস অর্থাৎ পৃথিবীর হিসেবে ১৪ দিন ধরে চলবে চন্দ্রযান পাঠানোর পরের স্তরের অনুষন্ধান৷

সেই মহামানবিক ইতিহাস:

১৯৬৯ সালের ২১ জুলাইয়ের দিন৷ মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখেন৷ বিশ্বজুড়ে পড়েছিল হই হই কাণ্ড৷ যে চাঁদকে ঘিরে কত গল্প, কত রোমান্স যুগ যুগ ধরে চলে আসছে তারই বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধির মুহূর্ত চিরন্তন৷ সেদিন ভারত সহ গোটা বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছিল সেই নজিরবিহিন ঘটনা৷ চাঁদের বুকে হাঁটছে মানুষ৷

তারও পরে গত কয়েকটি দশক ধরে কোনও রাতে গল্পের ঝুলি খুলে ঠাকুমা-দিদিমারা তখনও বলে চলেছিলেন চাঁদের জোছনা মাখা গল্প কথা৷ চাঁদের বুড়ির কথা৷ আঁধারে মাখা গা ছমছমে ভুতুড়ে কাহিনি৷ প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই কাহিনি শুনে চলেছে৷ সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে চাঁদকে জানার অবিরাম চেষ্টা৷ ২০১৯-এ অর্থাৎ ৫০ বছর পরেও পৌঁছে সেই কাল্পনিক গল্পের অনবদ্য মোড়ক হাতছানি দেয় বইকি৷ কিন্তু সেই সঙ্গে কৌতূহলও তৈরি করে- কী আছে চাঁদে ? সেই লক্ষ্যেই চন্দ্রযানের অভিযান আরও এক রোমাঞ্চকর পর্ব৷