কলকাতা: আবারও বিজেপির অস্বস্তি বাড়ালেন দলেরই নেতা তথা নেতাজি সুভাষ।চন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য চন্দ্র বসু। এবার দলকে কাঠগড়ায় তুলে চন্দ্র বসুর তোপ, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই সন্ত্রাসের রাজনীতি করা যায় না’। এই প্রথম নয়, এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে দলকে কাঠগড়ায় তুলে মন্তব্য করেছেন চন্দ্র বসু। কখনও দলের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কখনও আবার পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

এবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিজেপির সমালোচনায় সরব দলেরই নেতা চন্দ্র বসু। জোর করে কোনও আইন মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না বলেই মনে করেন চন্দ্র বসু। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনও মতেই কোনও আইন কারও উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রথমে মানুষকে বোঝাতে হবে। অশালীন হওয়া যাবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বলেই সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে পারব না।’

সংশোধিত নাগরকিত্ব আইন নিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে ইতিমধ্যেই দেশব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। সাধারণ মানুষের কাছএ পৌঁছে যাচ্ছেন বিজেপি নেতারা। নাগরিকত্ব আইন কী, তা মানুষকে বোঝাচ্ছে গেরুয়া শিবির। অমিত শাহের নির্দেশই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনসংযোগ বাড়াতে একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে বিজেপির এই নয়া কৌশল। বিজেপি নেতা চন্দ্র বসুও জানিয়েছেন, সিএএ কার্যকর করার আগে সাধারণ মানুষকে আরও ভালভাবে সেই আিন সম্পর্কে বোঝাতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে বিল পাশ হয়ে গেলে সেটা মানতে বাধ্য থাকবে রাজ্য সরকার। সেটাই আইনত সঠিক। তবে গণতান্ত্রিক দেশে কোনও কিছুই গায়ের জোরে কারও উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না।’

এরই পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সিএএ নিয়ে বোঝাতে গিয়ে নির্দিষ্ট কোনও ধর্মের উল্লেখ করা উচিত নয় বলেও সওয়াল করেছেন বিজেপি নেতা চন্দ্র বসু। এই প্রসঙ্গে চন্দ্র বু বলনে, ‘এই আইন যে সত্যিই অত্যাচারিতদের জন্য তৈরি হয়েছে সেটা মানুষকে বোঝাতে হবে। সেটা বোঝাতে গিয়ে নির্দিষ্ট কোনও ধর্মের উল্লেখ করা চলবে না।’

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি ইস্যুতে এমনিতেই বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে গেরুয়া শিবির। জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতিতেও ওই দুই আইন নিয়ে বিরোধীদের সাঁড়াশি চাপে কার্যত নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে পদ্ম শিবিরকে। ড্যামেজ কন্ট্রোলে এতটুকু ফাঁকফোকর রাখতে চাইছেন না বিজেপি নেতারা। ক্রমাগত সিএএ ও এনআরসি-র স্বপক্ষে চলছে পালটা সওয়াল। এরই মধ্যে দলেরই নেতা চন্দ্র বসুর এই মন্তব্য খানিকটা হলেও বঙ্গ বিজেপির অস্বস্তি যে বাড়াল তা বলাই বাহুল্য।