হুগলি: করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে বাংলায়। একের পর এক জায়গায় ক্রমশ বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগে ফেলেছে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। যার মধ্যে অন্যতম হুগলি জেলা। এই জেলায় করোনা সংক্রমণ রীতিমত চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কপালে। বিশেষ করে চন্দননগর উর্দিবাজার নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত প্রশাসনিকমহল। ভাইরাস ঠেকারে একেবারে টিন দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে ওই এলাকা।

জানা যাচ্ছে চন্দননগর পুরসভার ১১ এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ড জুড়ে উর্দিবাজার এলাকা। আর সেখানের একটি ওয়ার্ডে সম্প্রতি তিনজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাঁদের কাছাকাছি যাওয়া আরও তিনজনের মধ্যেও ছড়িয়েছে মারণ এই ভাইরাসের সংক্রমণ। এখানেই শেষ নয়, শুক্রবার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই ওয়ার্ডের আরও ১৬ জনের শরীরে ওই ভাইরাসের উপসর্গ ধরা পড়েছে। আর তা জেলা প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছতেই নড়েচড়ে বসেছে আধিকারিকরা।

ভাইরাসকে যেভাবেই হোক ঠেকাতে হবে? এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ আধিকারিকদের কাছে। আর তা করতে প্রথমেই উর্দিবাজার এলাকায় মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন বলে সিদ্ধান্ত নেন আধিকারিকরা। আর সেই কারণেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে দুই কন্টেনমেন্ট জোনকে একেবারে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন বাড়ি থেকে একেবারেই বের না হন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। আগেই বাঁশের ব্যারিকেড করে এখানকার বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে।

এ বার ঠিক হয়েছে, রাস্তার প্রবেশপথ টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে। বিকেলেই সেই কাজ শুরু হয়ে যায়। আগামী সাত দিন লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার-সহ যাবতীয় দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ভ্যানে করে এলাকায় আনাজ-মাছ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঘটনাস্থলে যান জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

গিয়েছিলেন খোদ জেলাশাসক এবং পুলিশ-প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল সরজমিনে খতিয়ে দেখা হয়। এরপর জেলাশাসকের দফতরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানেই পুরো এলাকা টিন দিয়ে আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, চারটি পরিবারের বেশ কিছু মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

যাতে এই এলাকা থেকে শহরের অন্যত্র ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্যে প্রশাসনের তরফে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। অন্যদিকে, নতুন করে ওই এলাকায় যাতে ভাইরাস না ছড়িয়ে পড়ে সেজন্যে সতর্ক জেলাপ্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে আক্রান্তদের কাছাকাছি আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা করা হচ্ছে লালারস। প্রশাসনের তরফে মানুষের কাছে আশ্বাস, আতঙ্কিত হবেন না, প্রশাসনের কথা শুনে বাড়িতেই থাকুন।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।