নয়াদিল্লি: বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ICICI ব্যাংকের সিইও এবং এমডি চন্দা কোছারের৷ এর আগেই ভিডিওকন কর্তা বেণুগোপালধূতের সঙ্গে তাঁর স্বামী দীপক কোছারের লেনেদেন কথা উঠে ছিল যা ব্যাংকের স্বার্থের পরিপন্থী হওয়ায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে৷ এবার আরও একবার ব্যাংকের স্বার্থগত সংঘাতের কথা তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি সর্ব ভারতীয় দৈনিক৷

গত ছয় বছর ধরে চন্দা কোছারের দেওর রাজীব কোছারের সংস্থা অবিস্তা অ্যাডভাইসরি-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিদেশি সাতটি সংস্থাকে দেওয়া ১.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পুনর্গঠন করার৷ এক্ষেত্রে অবিস্তা অ্যাডভাইসরি কথা অনুসারে তাদের ভূমিকা রয়েছে জয়প্রকাশ অ্যাসোসিয়েটস, জয়প্রকাশ পাওয়ার ভেঞ্চার, জিটিএল ইনফ্রাস্টাকটার,সুজলন, জেএসএল এবং ভিডিওকন গোষ্ঠী ঋণ পুনর্গঠনের পরামর্শদাতা হিসেবে৷

২০১৭ সালে অবিস্তা কাজ করেছে জয়প্রকাশ অ্যাসোসিয়েটের ১১০ মিলিয়নডলারের বিদেশি মুদ্রা পরিবর্তনযোগ্য বন্ড-এ ঋণ পরামর্শদাতা হিসেবে৷ এক্ষেত্রে অবিস্তা পরামর্শ দিয়েছিল বিদেশি মুদ্রা পরিবর্তনযোগ্য বন্ড-এর ব্যাপারে, সেখানে জয়প্রকাশ অ্যাসোসিয়েটের জন্য কনসোটিয়াম ব্যাংকের মধ্য লিড ব্যাংক ছিল আইসিআইসিআই ব্যাংক৷

অবিস্তা ঋণ পরামর্শদাতা হিসেবে জয়প্রকাশ পাওয়ার ভেঞ্চারের ২০০ মিলিয়ন ডলারে ঋণ পুনর্গঠনে কাজ করেছে৷ সেক্ষেত্রেও আইসিআইসি ব্যাংক অন্যতম ঋণদাতা এবং ঋণ পুনর্গঠনের ফলে শেয়ার নিয়েছে৷

বাজার বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এই বিদেশ মুদ্রা পরিবর্তন যোগ্য বন্ড ইস্যু করা হয়েছিল দেশিয় বাজারে কোনও ভাবেই যেন ঋণ খেলাপি না হয়৷ ২০১৪ সালে ৫৭৭ মিলিয়ন ডলারের সুজলন কিংবা ২০১২ সালে জিটিএল-এ ৩০৬ মিলিয়ন ডলারের ঋণ পুনর্গঠনে এই একই রকম ভূমিকা দেখা গিয়েছে অবিস্তার এবং সেখানে ঋণ দিয়েছে আইসিআইসি ব্যাংক৷

২০১৬ সালে অবিস্তা একই ভূমিকা দেখা গিয়েছ জিন্দাল স্টিলে যেখানে ঋণ দিয়েছিল আইসিআইসিআই৷ তাছাড়া ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে অবিস্তা একই ভূমিকা ভিডিওকনের বিদেশ মুদ্রা পরিবর্তন যোগ্য বন্ড যথাক্রমে ১৯৪ মিলিয়ন ডলার এবং ৯৭ মিলিয়ন ডলার ইস্যু করা হয়৷

যদিও ওই প্রতিবেদেন আইসিআইসিআই ব্যাংকের মুখপাত্র জানিয়েছে, তাদের ব্যাংক অবিস্তা অ্যাডভাইসরির কাছ থেকে কোনও রকম পরামর্শ বা পরিষেবা নেয়নি৷ তাছাড়া তাঁর যুক্তি কোম্পানি আইনের আত্মীয়ের সংজ্ঞায় স্বামীর ভাই থাকে না৷ অন্যদিকে রাজীব কোছারও দাবি করেছেন তাঁর কাজে কোনও স্বার্থগত সংঘাত নেই৷ প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই তাঁরা ঋণ পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন বিভিন্ন সংস্থায়৷