স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা: নিম্নচাপের সাহায্যে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তবে সেই বৃষ্টিতে কোনও স্বস্তির সম্ভাবনা নেই, কারন বর্ষায় মৌসুমি বায়ু দুর্বল। এমন বৃষ্টিতে ভ্যাপসা গরম আরও বাড়বে বই কমবে না।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা আছে। তার ধাক্কায় দুর্বল মৌসুমি বায়ু একটু নড়েচড়ে বসে দক্ষিণের জেলাগুলিতে বৃষ্টি দিতে পারে। তাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, যা খুবই অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হবে।

বৃহস্পতিবার ২৭ জুনের পাশাপাশি ২৮ ও ২৯ জুন পর্যন্ত এই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। এতে অস্বস্তির সম্ভাবনাই বেশী লুকিয়ে রয়েছে বলে পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের। মোটামুটি ভালো বৃষ্টি পেতে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা গড়াতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতার মানুষের হাহাকার ক্রমে বাড়ছে। রাস্তায় বেরোলেই দিনভর মানুষকে নাকাল করে ছাড়ছে অতিরিক্ত আর্দ্রতা। বৃহস্পতিবার সকালে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পারদ জানাচ্ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ আরও এক ডিগ্রি বেড়ে গিয়েছে। বুধবার যা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এদিন তা হয়ে গিয়েছে ২৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি বেশী। সঙ্গী আর্দ্রতা তো রয়েইছে, যার সর্বোচ্চ পরিমাণ সকালেই ৯৩ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৫৮ শতাংশ। বৃষ্টি যথারীতি হয়নি।

বেলা গড়ালে সর্বোচ্চ তাপামাত্রা ৩৬ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলে হয়তো দশমিকের অঙ্কে কমতে পারে পারদ, তাও না হবার সম্ভাবনাই বেশী দেখছেন আবহবিদরা। বাতাসে ভরতি পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিমী বায়ুর প্রভাব। এতে আবহাওয়ার এই হাল হওয়াটাই স্বাভাবিক যা থেকে অন্তত আরও চার দিন নিস্তার নেই।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি পড়শি দেশ ভুটানে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। যার জেরে ভয়াবহ ভূমি ধ্বসের কবলে পড়েছে ‘গ্রিন’ ভুটান। ফুন্টসোলিং থেকে থিম্পু পর্যন্ত পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে ২৫ তারিখ গত আলিপুরদুয়ারে ৪০৫.৪ মিমি, কুমারগ্রামে ৩৩৩.০ মিমি, বারোভিশায় ২৬৯.৬ মিমি, হাসিমারায় ২৫৩.২ মিমি, চেপানে ২৩৭.৮ মিমি, ফালাকাটায় ১৬৩.২ মিমি, মূর্তিতে ১৩৪.০ মিমি ও ঝালং-এ ১২৯.০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে।আগামী ২ দিনও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর, আর সেখানে দক্ষিণবঙ্গে আগামী দুই দিন ভরসা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি।