প্রসেনজিৎ চৌধুরী: যেভাবে আচমকা এক সকালে কোনও আসন না পেয়েই তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরায় প্রধান বিরোধী দল হয়ে গিয়েছিল, ঠিক তেমনই ছবি এঁকে দিল বিজেপি। সিকিমে তারাই এখন বিরোধী আসনে বসছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা ছড়িয়ে দিগন্ত জুড়ে। আকাশে মেঘের সারি। বৃষ্টিতে ধুয়ে থাকা সিকিমের বনাঞ্চল, পাইন বনের হাওয়ায় অনেক অনেক দিন পর রাজনৈতিক দোদুল্যমানতার হাওয়া বইছে। গত দু দশকের বেশি সময় ধরে এমন কিছু দেখা যায়নি এই পাহাড়ি তথা চিন-ভুটানের সীমান্তে লেপটে থাকা রাজ্যটিতে।

সিকিমে ভোটের নিরিখে শূন্য পাওয়া দল বিজেপি হয়েছে প্রধান বিরোধী দল। মঙ্গলবারের সকালে যেন পাহাড়ি ধস নামল সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টে (এসডিএফ)। গত বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী এসডিএফের ১৫ জন বিধায়কের মধ্যে ১০ জনই দিল্লিতে গিয়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। এদিকে এসডিএফ বিধায়কদের দলত্যাগের খবরে গ্যাংটকের রাজনীতিতে শোরগোল। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ প্রতিবেশী রাজ্য। ফলে উত্তরবঙ্গেও এই হাওয়া প্রবল ছড়িয়েছে। গত লোকসভায় উত্তর বাংলায় বিজেপি বিপুল সাফল্য পায়। সিকিমের পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ঘটবে না তো ? এমনই প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করেছে।

এমনিতেই দার্জিলিং-কে গোর্খাল্যান্ড ঘোষণা করা নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে। সিকিমের সংলগ্ন এলাকা হল দার্জিলিং। এখানেও বিজেপির সাংসদ রয়েছেন। সিকিমের রাজনীতির অভ্যন্তরে উঁকি মারলে দেখা যাচ্ছে সরকার পক্ষ অর্থাৎ সিকিম ক্রান্তিকারি মোর্চা স্বস্তিতে নেই। যেভাবে বিরোধীদের বিধায়করা দলত্যাগ করেছেন সেই ধাক্কা লাগতে চলছে সরকারের গায়ে বলেই আশঙ্কা। একই অবস্থা হয়েছে সিকিমের প্রতিবেশী পশ্চিমবাংলাতেও। লোকসভা নির্বাচনের আগে ও পরে ক্রমাগত তৃণমূল কংগ্রেস শিবির থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পালা চলছে।

দলত্যাগীদের ধাক্কায় ১৯৯৯ সাল থেকে টানা ২৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকা পি কে চামলিং হলেন তৃতীয় স্থানের নেতা। এতে জৌলুশ হারালেন তিনি। আর অস্বস্তি বাড়ছে মমতা ও সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের। কারণ বিধায়কদের দলত্যাগের হিড়িক। সিকিমের ক্ষমতায় আসতে বিজেপির দরকার আর মাত্র ৮ জন দলত্যাগী বিধায়ক। যেভাবে এক ঝটকায় প্রধান বিরোধী নেতা হয়েছিলেন পবন কুমার চামলিং, তার থেকেও বড় ঝটকা দিয়ে তাঁর বিরোধী নেতার তকমাটি ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। আধুনিক সিকিমের রূপকার বলে পরিচিত চামলিং। তাঁর পকেটে মাত্র ৪ জন বিধায়ক রয়েছেন।

সূত্রের খবর, পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চামলিংয়ের দলে পড়ে থাকা চার এসডিএফ বিধায়কের বেশিরভাগই ঝুঁকতে পারেন গেরুয়া শিবিরে। এমনটাই ভাসছে গ্যাংটক ও নয়াদিল্লির রাজনীতির হাওয়ায়। ফলাফলের হিসেব বলছে, দেশজুড়ে প্রবল মোদী হাওয়া থাকলেও, যেকটি রাজ্য গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে খালি হাতে ফিরিয়েছে সিকিম তারই অন্যতম। কিন্তু মঙ্গলবারে এসডিএফ বিধায়কদের দলত্যাগের হিড়িকে বিজেপি এক পলকেই প্রধান বিরোধী দল।

আর চামলিংয়ের ঘনিষ্ঠ দোরজি শেরিং লেপচা হচ্ছেন প্রধান বিরোধী নেতা। ৩২ সদস্যের সিকিম বিধানসভা। ১৭টি দখল করে ক্ষমতায় সিকিম ক্রান্তিকারি মোর্চা। গত নির্বাচনে ১৫টি দখল করে বিরোধী হয়েছিল এসডিএফ। তাদের ১০ জন দলত্যাগ করেছেন। এখন সেই ১০ জনকে নিয়ে বিজেপি প্রধান বিরোধী দল। বাকি ৫ জন বিধায়ক নিয়ে এসডিএফ তৃতীয়।