কলকাতা: পুজো শেষ ৷ এবার কমতে শুরু করবে তাপমাত্রা। শহরে শীত আসছে। শীতের কলকাতায় ছড়িয়ে পড়বে কবিতার উষ্ণতা। দ্বিতীয় ‘‌চেয়ার পোয়েট্রি ইভিনিংস ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল শুরু হচ্ছে ২২ নভেম্বর থেকে। চলবে ২৪ তারিখ পর্যন্ত। সংস্কৃতির রাজধানীতে কবিতা নিয়ে মেতে থাকবেন দেশ–বিদেশের কবিরা।

অস্ট্রেলিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চিলি, আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল–সহ আরও কয়েকটি দেশে থেকে কবিরা যোগ দেবেন এই উৎসবে। আসবেন আমেরিকার বিশিষ্ট কবি ব্রেইন টার্নার, অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্থোনি লরেন্স, পর্তুগালের সারা এফ কোস্টা, চিলির জেসাস সেপুলভেদা, নেদারল্যান্ডসের এলমার কুইপার, হাঙ্গেরির বালাজ্‌স জলোসি, স্লোভাকিয়ার হ্যাঞ্জাল সিলা নাগি। ভারতীয় কবিদের মধ্যে অংশ নিতে চলেছেন অরুন্ধতী সুব্রক্ষণ্যম, দেবীপ্রসাদ মিশ্র, অশুতোষ দুবে, হেমন্ত দিভাতে, যশোধরা রায়চৌধুরী, অংশুমান কর, কাত্যায়নী, বিনা সরকার এলিয়াস, প্রবোধ পারিখ, কৌশিকী দাশগুপ্ত এবং অভিমন্যু মাহাতো।

২২ নভেম্বর জোড়াসাঁকোর রথীন্দ্র মঞ্চে হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। যেখানে নিজেদের মাতৃভাষায় কবিতা পাঠ করবেন দেশ–বিদেশের কবিরা। এর পাশাপাশি ইংরেজিতে অনূদিত সেই কবিতাগুলিও পাঠ করা হবে। সন্ধেয় থাকবে লোকসঙ্গীতের আসর। উৎসবে বিভিন্ন ভাষার সঙ্গীত শোনার সুযোগ পাবেন দর্শক, কবিতাপ্রেমীরা। বাংলা, ইংরেজি, হাঙ্গেরি, গুজরাটি থেকে স্প্যানিশ— সব ভাষা মিলে যাবে ওইদিন। এ যেন বাড়তি পাওনা। থাকছে কবিতা–কর্মশালাও। যেখানে কবিতা নিয়ে কথা বলবেন বিশিষ্ট কবি অশ্বিনী কুমার। জোড়াসাঁকো ছাড়াও কবিতা উৎসব আয়োজিত হবে গ্যাঞ্জেস আর্ট গ্যালারিতেও। গঙ্গা বক্ষে কবিতা পাঠের মাধ্যমে সমাপ্তি হবে উৎসবের, ২৪ নভেম্বর। তখন মাঝ গঙ্গায় ক্রুজে চেপে কবিতা নিয়ে বিভোর থাকবেন কবিরা। গভীর রাত পর্যন্ত চলবে সে অনুষ্ঠান।

উৎসবের অধিকর্তা, কবি সনেট মণ্ডল জানিয়েছেন, ‌বাঙালিদের চেতনার সঙ্গে মিশে রয়েছে কবিতা। কবিতা উৎসবের প্রথম বছরেই তুমুল সাড়া পেয়েছিলাম। তা আমাদের উৎসাহ দিয়েছে। তাই এবার নতুন কিছু করার চেষ্টায় রয়েছি। এটা কেবল উৎসব নয়। এটা সাহিত্যের সবথেকে বাহুল্যবর্জিত, গালভরা মাধ্যমের উদ্‌যাপন।‌

উৎসবের অধিকর্তা, কবি তুষার ধাওয়াল সিংয়ের বক্তব্য, ‌এখানে শুধু প্রখ্যাত কবিদের সৃষ্টি নিয়ে মাতামাতি করা হচ্ছে না। একইসঙ্গে নবীন প্রজন্মের প্রতিভাধরদের জন্য একটা মঞ্চ করে দেওয়ার উদ্যোগ। উৎসবে তাঁদের পরিশ্রম মিশে রয়েছে। আর তার সুবাসও ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছেন তিনি। কবি যাঁরা মানুষের হয়ে কথা বলেন, লেখেন তাঁদের সঙ্গে পাঠকের সরাসরি যোগাযোগের দরকার রয়েছে বলে মনে করি। সীমানা ভেঙে গেছে। এখন বিশ্ব চলে এসেছে একই আঙ্গিনায়। যাঁরা আজীবন আমাদের সঙ্গেই ছিলেন ফের তাঁদের কথা শোনার সময় এসেছে।

কবিতা–পাঠ, কবিতা লেখা, বই নিয়ে কথা, নিজেদের লেখার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া— অজস্র বর্ণময় মুহূর্তের সাক্ষী থাকার জন্য সেজে উঠছে শীতের কলকাতা।