নয়াদিল্লি: পাকিস্তান আশ্রিত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গী গোষ্ঠীর প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ঘোষণার দাবি করে এসেছে ভারত৷ রাষ্ট্রসংঘে নিরাপত্তা কাউনসিলে ভারতের দাবির সপক্ষে ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকাকে পাশে পেলেও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চিনের বিরোধিতায় মাসুদকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করতে পারেনি রাষ্ট্রসংঘ৷ সে দেশের বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর মাসুদ আজহারকে নিয়ে নিজেদের মত পাল্টাতে চলেছে চিন৷

প্রধানত সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে নীতি নির্ধারণ জন্য বুধবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ কমিটির বৈঠক বসবে৷ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বেজিং জানিয়েছে মাসুদ আজহারকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী’ ঘোষণার পথে ‘সদর্থক অগ্রগতি’ হয়েছে৷ পুরো বিষয়টির ‘সুষ্ঠু সমাধান’-এরও পথে হাঁটার কথা বলা হয়েছে চিনের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে৷ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকের আগে চিনের এই ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছে ভারত৷

 

১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে সিআরপিএফ কনভয়ে বিস্ফোরক ভর্তি ট্রাক নিয়ে ঢুকে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটায় আদিল নামের এক জঙ্গী৷ এই সন্ত্রাসবাদী হামলায় মারা যান ৪০জন ভারতীয় সিআরপিএফ জওয়ান৷ এই ঘটনার দায়ী স্বীকার করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ৷ এরপরই জইশ প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ঘোষণার জন্য মার্চ মাসেই প্রস্তাব দেয় আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স৷ কিন্তু ‘পদ্ধতিগত ত্রুটি’র অভিযোগ তুলে সেই প্রস্তাব আটকে দিয়েছিল চিন৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবেশি দেশের এই বিরূপ পদক্ষেপের প্রভাব পড়ে দু’দেশের বৈদেশিক সম্পর্কে৷ ওই সময় ভারতের পক্ষ থেকে চিনের ভূমিকার সমালোচনাও করা হয়েছিল৷

বুধবার মাসুদকে আন্তর্জাতিক জঙ্গী ঘোষণার আলোচনা নিয়ে বৈঠক রাষ্ট্রসংঘে৷ ওয়াকিবহাল মহলের খবর, যে ‘পদ্ধতিগত ত্রুটি’র অভিযোগ তুলে মার্চে ভেটো দিয়েছিল চিন, সেটা হয়ত তুলে নিয়েছে সে দেশের বিদেশমন্ত্রক৷

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেন, ‘‘এটুকু বলতে পারি, আমি মনে করি বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান বেরিয়ে আসবে৷ আবারও বলছি, আমরা চাই আলোচনা এবং অধিকাংশ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক৷ ১২৬৭ কমিটিতে এ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং অগ্রগতি হয়েছে৷’’ বিশেষজ্ঞদের মতে , চিনের এই ভোল বদলের পিছনে রয়েছে তেল৷ তরল জ্বালানি আমদানি ইস্যূতে ভারতকে পাশে পেতে আগ্রহী চিন৷ পাশাপাশি আমেরিকা সহ ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের কূটনৈতিক চাপও রয়েছে চিনের উপর৷