তিরুঅনন্তপুরম: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্সের রেশ ফিকে হয়নি এখনও। এরইমধ্যে ফের হ্যাটট্রিক কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন দীপক চাহার। জাতীয় দলের জার্সি ছেড়ে বুধবার ঘরোয়া ক্রিকেটে রাজস্থানের হয়ে বল হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেন উত্তরপ্রদেশজাত এই ফাস্ট বোলার। যদিও মঙ্গলবার তিরুঅনন্তপুরমে সৈয়দ মুস্তাক আলি টুর্নামেন্টে বিদর্ভের বিরুদ্ধে অল্পের জন্য হ্যাটট্রিক হাতছাড়া করলেন চাহার। একইসঙ্গে দলকেও জয় এনে দিতে পারল না তাঁর দুরন্ত বোলিং।

রবিবার জামথায় সিরিজের নির্ণায়ক টি-২০’তে বল হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন চাহার। হ্যাটট্রিক সহ মাত্র ৭ রানে ৬ উইকেট ঝুলিতে ভরে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাটে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে সেরা পারফরম্যান্সের নজির ছিল শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন মিস্ট্রি স্পিনার অজন্তা মেন্ডিসের দখলে। স্বাভাবিকভাবেই মুশফিকুরদের বিরুদ্ধে ঈর্ষনীয় বোলিং পারফরম্যান্সের সুবাদে ক্রিকেটমহলের এলাহি প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছেন চাহার। তবে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাইশ গজে নেমে চাহার বোঝালেন সাফল্যে মাথা ঘুরে যায়নি তাঁর।

বিদর্ভের বিরুদ্ধে এদিন চাহার ৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে তুলে নিলেন চার উইকেট। ১৩তম ওভারের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে চাহার এদিন ফেরান দর্শন নালকান্ডে, শ্রীকান্ত ওয়াঘ ও অক্ষয় ওয়াদকরকে। কিন্তু চতুর্থ বলের পর একটি ওয়াইড করে বসেন রাজস্থান পেসার। তাই প্রাথমিকভাবে হ্যাটট্রিকের খবর চাওর হলেও পরে জানা যায় অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়েছে সেটি। এরপর বৃষ্টি নেমে যাওয়ায় ক্রিজে নামতে পারেননি বিদর্ভের এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান। ১৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৯৯ রানেই শেষ হয় বিদর্ভের ইনিংস।

ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ১৩ ওভারে রাজস্থানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ১০৭ রান। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ১৩ ওভারে ১০৫ রানে থেমে যায় রাজস্থানের ইনিংস। ১ রানে ম্যাচ হারতে হয় তাদের। সবমিলিয়ে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় চাহারের দুরন্ত বোলিং এদিন বিফলে যায়। উল্লেখ্য, গত রবিবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের নজির গড়েন চাহার। অর্থাৎ, তিনটি ফর্ম্যাটেই এখন হ্যাটট্রিকধারী বোলার রয়েছে ভারতের ঝুলিতে।

রবিবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চাহারের হ্যাটট্রিক এসেছিল দু’ওভার মিলিয়ে। বাংলাদেশের ১৮তম ওভার অর্থাৎ ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারের শেষ বলে চাহার আউট করেছিলেন শফিউল ইসলামকে। অন্তিম ওভারের প্রথম দুই বলে ম্যুস্তাফিজুর রহমান ও আমিনুল ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ ইনিংসের যবনিকা টানেন ভারতীয় ফাস্ট বোলার। ৩০ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজ পকেটস্থ করে রোহিত শর্মা অ্যান্ড কোম্পানি।