কলকাতা:  যেখানে দেশের তুলনায় কলকাতায় সিইএসসির বিদ্যুৎের দাম বেশি। যা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিজেপি। দাম বৃদ্ধি হওয়া নিয়ে রীতিমত অস্বস্তিতে তৃণমূল সরকার। অবশেষে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সরকারি সংস্থার তুলনায় সিইএসসি’র বিদ্যুতের দাম কেন বেশি তা ব্যাপারে রিপোর্ট তলব করলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সরকারি সংস্থার থেকে ইউনিট প্রতি ১৯ পয়সা বেশি। আর সে বিষয়েই লিখিত জবাব চেয়েছেন মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তাঁর চেম্বারে বিদ্যুৎ দফতর এবং সিইএসসি’র আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকেই বিদ্যুৎের দাম সিইএসসিকে লিখিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। অন্যদিকে, বৈঠকে সিইএসসি আধিকারিকরা মন্ত্রী ও সরকারি অফিসারদের জানান, বেসরকারি সংস্থা বলে তাঁদের সামগ্রিক উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কিছুটা বেশি। তাছাড়া বহু যুগ ধরে সরকারি সংস্থার সঙ্গে তাঁদের বিদ্যুতের দামের এই ফারাক রয়েছে। শুধু মুখে বলা নয়, এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্টও মন্ত্রীকে দিয়েছেন সিইএসসি কতৃপক্ষ।

তাঁরা জানিয়েছেন ২০০০ সালে বাম সরকারের আমলে এই ফারাক ইউনিট প্রতি ২৬ পয়সা ছিল। বরং এখন তা কমে ১৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যায় মন্ত্রী পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। সেই কারণে লিখিত রিপোর্ট তলব করেছেন। উল্লেখ্য, একই রাজ্য অথচ ভিন্ন দাম বিদ্যুতের৷ সিইএসসি-র এলাকায় বিদ্যুতের দাম রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির চেয়ে বেশি।এ রাজ্যে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নেয় ৭ টাকা ১২ পয়সা। অথচ সিইএসসি নেয় প্রতি ইউনিটের জন্য ৭টাকা ৩১ পয়সা৷ আর এই দামের ফারাকের কারণ জানতেই সিইএসসি সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়৷

কেন একই রাজ্যে ভিন্ন এলাকায় বিদুতের দামে ফারাক তা নিয়ে বুধবার বিধানসভায় প্রশ্ন তোলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী ৷ তখন সেই প্রশ্নের মুখে পড়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, তিনি সিইএসসি-র সঙ্গে বৈঠক করে এই বিষয়ে কারণ জানতে চাইবেন৷ এরপরেই সিইএসসির সঙ্গে বৈঠক করেন সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী।