শ্রীনগর: যদিও কাশ্মীর থেকে কা্রউ তুলে নেওয়া হয়েছে, চালু হয়েছে ইন্টারনেট, টেলিফোন পরিষেবা। তবু অশান্তির আশঙ্কা এড়ানো যাচ্ছে না। তাই বিশেষ ব্যবস্থা নিতে চলেছে প্রশাসন।

আগামিদিনে যাতে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা হাতের বাইরে চলে না যায় তার জন্য বিশেষ কৌশলী পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করেছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। সূত্রের খবর চারটি স্তরে কার্যকর করা হবে এই ব্যবস্থা। প্রথম স্তরে থাকবেন বিশিষ্ট সরকারি কর্মীরা। যাদের বলা হচ্ছে ‘মুভার্স অ্যান্ড শেকার্স’। এই দলের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বুদ্ধিজীবীদের সব সমাবেশে উপস্থিত থাকবে। কেউ ভিতরে ভিতে হিংসা ছড়াচ্ছে কিনা সেটা দেখা হয়ে। এক্ষেত্রে প্রশাসন অভিযুক্তদের আটক করতে পারে। এমনকি গৃহবন্দি করেও রাখতে পারবে।

শান্তি বজায় রাখতে সরকারের দ্বিতীয় পদক্ষেপ হবে, কাশ্মীরী যুবক যারা প্ররোচিত হয়ে পাথর ছোঁড়ে তাদের আটকানো। এক্ষেত্রে কমিউনিটি বন্ডের চিন্তাভাবনা রয়েছে প্রশাসনের। ২০টি পরিবারের থেকে মুচলেকা নেওয়া হবে এই মর্মে যে, তাদের পরিবারের যুবকরা পাথর ছোঁড়ার মতো কার্যকলাপে জড়িত থাকবে না।

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখা দিয়ে প্রায়ই জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে থাকে। কাশ্মীরকে শান্ত রাখতে যা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সীমান্ত সুরক্ষা পর্যালোচনা করা হবে। সীমান্তে সেনা আরও সতর্ক থাকবে। পাঞ্জাব ও জম্মুর সীমান্তের নিরাপত্তাও কড়া করা হবে।

প্রশাসন ধর্মীয় প্রধানদের কার্যকলাপে নজর রাখবে। অনেক সময়, তাদের মাধ্যমেও অশান্তি ছড়াতে পরে। ফলে পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রমাণ মিললেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হতে পারে।

দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জম্মু-কাশ্মীরে বিশেষ নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে প্রশাসন। প্রথমে, পর্যটক ও অমরনাথ যাত্রীদের উপত্যকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর, রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাকে আটক করা হয়। কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৪০০ কর্মী বর্তমানে জেলে। তবে, পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হচ্ছে।