নয়াদিল্লি: বাজারে গেলেই আকাশ ছোঁয়া দাম পেঁয়াজের। ঝাঁজে চোখ দিয়ে কার্যত জল বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড় মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের। বাজারে গিয়ে দর হাঁকলেই কেজি প্রতি ৮০ টাকা করে বিকোচ্ছে পেঁয়াজ। দৈনন্দিন রান্নায় পেঁয়াজের ভূমিকা অনবদ্য তাইতো রান্নায় স্বাদ বাড়াতে বাধ্য হয়ে পকেট থেকে বেশী টাকা খসিয়ে পেঁয়াজ কিনতে একপ্রকার বাধ্যই হচ্ছেন ক্রেতারা। তাই বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি কমাতে অন্যান্য দেশগুলি থেকে পেঁয়াজ আমদানির কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের বৈঠকে এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি কমাতে বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। তিনি আরও বলেন ভারতে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে মিশর, তুর্কি এবং ইরান দেশের সঙ্গে কথাও চলছে। দেশজুড়ে পেঁয়াজের দাম এবং ঘাটতি কমাতে সরকার মহারাষ্ট্র ও অন্যান্য রাজ্য থেকে পেঁয়াজ আমদানি করলেও উৎসবের মরশুমে হটাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়াতে ভোটবাক্সে চাপের মুখে পড়েছে সরকার।

জাতীয় কৃষিমন্ত্রকের তরফে দিল্লি মাডার ডেয়ারি এবং সফলকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এমডি’র তরফে একটি প্রতিনিধি দলকে নাসিকের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নাসিক পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও তাঁরা মহারাষ্ট্র, নাসিক, দিল্লি এবং পাশের অঞ্চলগুলি থেকে পেঁয়াজ পাঠানোর ব্যাপারে কথাবার্তা বলবেন।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দুই সদস্যের একটি টিম বুধ এবং বৃহস্পতিবার কর্ণাটক ও রাজস্থান পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাজারে পেঁয়াজ রফতানির ব্যাপারে কথা বলবেন।

যদিও ইতিমধ্যে রাজস্থান সরকারের তরফে দেশের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের যোগানের ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজস্থান থেকে আশেপাশের বেশ কিছু অঞ্চলে পেঁয়াজ রফতানি শুরুও হয়ে গিয়েছে। দিল্লি সরকারকে পেঁয়াজের মুল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজস্থান এবং কর্ণাটকের অবস্থা পরিদর্শনের জন্য মন্ত্রীপরিষদকে কর্মী নিয়োগ করতে বলা হয়েছিল। মন্ত্রী পরিষদের নিয়োগাকৃত ওই কর্মকর্তারা এই দুই রাজ্যে গিয়ে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন। এছাড়াও ব্যবসায়ীরা যাতে অতিরিক্ত দাম না নেয় সেই ব্যাপারেও ওই মন্ত্রকের তরফে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।