নয়াদিল্লি : ফের কড়া নজরদারি জাকির নায়েকের কার্যকলাপের ওপর। ইতিমধ্যে দেশ ছাড়া জাকির। সম্ভবত তিনি মালয়েশিয়াতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিতর্কিত এই ধর্মপ্রচারক সম্পর্কে বিশেষ ঘোষণা করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে জাকির নায়েকের পিস টিভি চ্যানেল, মোবাইল অ্যাপ ও ইউটিউব চ্যানেলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উসকানিমূলক বক্তব্য ও হিংসা ছড়ানোর চেষ্টার অপরাধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে খবর। নিরপরাধ মুসলিম যুবকদের মধ্যে ভারত বিদ্বেষী মনোভাব গড়ে তোলার চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে।

এই চ্যানেলগুলির মাধ্যমেই জাকির নায়েক দেশবিরোধী কাজ চালায় বলে খবর। আইবি রিপোর্ট বলছে, জাকির নায়েকের দলের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রয়েছে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের। আরবের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে নিয়মিত টাকার যোগান পায় জাকিরের দল।

উল্লেখ্য, খালিদ সাইফি, প্রাথমিকভাবে যাকে দিল্লি হিংসায় যুক্ত থাকার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েকের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় দেখা করেছিলেন। পাশাপাশি পুলিশ আশাবাদী যে খালিদ সাইফির মোবাইল ফোনকে নজরে রাখলে অনেক নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। সূত্র ইন্ডিয়া টুডে’কে জানিয়েছে, “টাকার বিষয়ে তথ্য পেতে মোবাইল ফোনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে সাইফির সূত্র ধরে জাকির নায়েক অবধি পৌঁছতে পারবে পুলিশ”।

খালিদ সাইফির পাসপোর্ট দেখে ইতিমধ্যেই বিদেশে একাধিকবার যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেরেছে পুলিশ। জানা যাচ্ছে হিংসা ছড়ানোর আর্থিক রসদ জোগাতে জাকির নায়েক সহ অনেকের সঙ্গে তিনি দেখা করতে একাধিক জায়গায় গিয়েছিলেন।

উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে দেশছাড়া জাকির নায়েক। এছাড়া বিদেশ থেকে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে জাকির নায়েক রয়েছেন মালয়েশিয়াতে। ২০১৮ সালের ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেণ্ডারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, যেসব অর্থনৈতিক অপরাধীরা ভারতীয় নিয়মবিধিকে লঙ্ঘন করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

এদিকে, জাকির নায়েক পিস টিভির প্রায় লক্ষাধিক সাবক্রিপশন রয়েছে। গুগল প্লে স্টোরে এটি পাওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে পিস টিভি অ্যাপ। যেখানে চারটি ভাষায় সম্প্রচার দেখা যায়। ইংরাজি, উর্দু, বাংলা ও চিনা।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।