নয়াদিল্লি: অযোধ্যা মামলায় আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট নয় সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। তারা জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তারা চিন্তাভাবনা করবে। এব্যাপারে লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরীকে জিজ্ঞাসা করে হলে তিনি বলেন, “ওয়াকফ বোর্ড কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার। আদালত একটা খাতায় কলমে নির্দেশ দিয়েছে। তবে আমার মনে হয়, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মন রক্ষা করে যদি কিছু করা যায় তাহলে সাফল্য অনেক বড়।কেন্দ্রের উচিত কোর্ট এবং মানুষের মনের রায়ের মধ্যে সমতা আনা”

তবে রায় বেরোনোর পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় অধীর বলেছেন, “প্রথম থেকেই কংগ্রেস শান্তির পক্ষে ছিল। বরাবরই আমরা শান্তির পূজারী। আমাদের সবার উচিত শীর্ষ আদালতের রায়কে সম্মান করা।”

অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির হবে। বিকল্প পাঁচ একর জমি পাবে মুসলিমদের পক্ষের ‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড’। শনিবার সকালে বিতর্কিত অযোধ্যা মামলায় এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে শীর্ষ আদালতের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে এই রায় বলে আদালত সূত্রে খবর।

রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিতর্কিত মূল বিতর্কিত জমি পাবে ‘রাম জন্মভূমি ন্যাস’। এই জমিতে মন্দির তৈরিতে কোনও বাধা নেই। তবে কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তিন মাসের মধ্যে একটি ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। ওই ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানেই থাকবে বিতর্কিত মূল জমি। কী ভাবে, কোন পদ্ধতিতে মন্দির তৈরি হবে, তারও পরিকল্পনা করবে ট্রাস্ট।

অন্য দিকে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প ৫ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। নির্দেশে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কোনও জায়গায় ওই জমির বন্দোবস্ত করতে হবে সরকারকে।

সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরাইব জিলানি বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান জানাই। তবে এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব। যদি আমাদের সংগঠন সম্মত থাকলে আমরা একটি রিভিউ পিটিশন ফাইল করব ৷ এটা আমাদের অধিকার এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনের মধ্যেও পড়ে ৷ রায়ের প্রতিলিপি হাতে পাওয়ার পরই আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৷” তবে কাউকে কোনও প্রতিবাদ-প্রতিরোধের রাস্তায় না যাওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন জাফরাইব।

জিলানি আরও বলেন, “আমাদের অসন্তোষের মূল কারণ বিতর্কিত জমিতে আমাদের কোনও অধিকার দেওয়া হয়নি। ” অযোধ্যার বহু বিতর্কিত জমির আইনি লড়াইয়ে প্রথম থেকেই অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন জিলানি। দিন কয়েক আগেই উনি দাবি করেন, এই লড়াই শুধু একটি মসজিদের জন্য নয়, এটা তাঁদের ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠার লড়াই ৷ আজ রায় ঘোষণার পর জিলানির মুখ ছিল বেশ থমথমে৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নিজের এবং ওয়াকফ বোর্ডের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে চলে যান ৷