নয়াদিল্লি : মায়েদের মৃত্যুর হার বাড়ছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামল কেন্দ্র। মেটারনাল মর্টালিটি রেট বা এমএমআর কমাতে টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে। কেন্দ্র জানিয়েছে মায়েদের মৃত্যুর পিছনে বয়স একটা বড় ফ্যাক্টর। অতিরিক্ত কম বয়স ও অপুষ্টিজনিত কারণে অনেক ক্ষেত্রেই মায়েদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

চলতি বছরের ৩১শে জুলাই এই বিষয়ে রিপোর্ট জমা পড়ে। রিপোর্ট বলছে এই টাস্ক ফোর্স শিক্ষার বিস্তার করতে চাইছে মহিলাদের মধ্যে, যাতে খুব কম বয়সে গর্ভবতী কেউ না হয়ে পড়ে। কত বছর বয়েসে মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে, বা কত বছর বয়সে তারা মা হচ্ছে, সেই বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাবে এই টাস্ক ফোর্স।

এছাড়াও থাকছে অপুষ্টির বিষয়। কোনও মা গর্ভবতী থাকাকালীন ঠিকমত খাবার পাচ্ছে কীনা, তা নিয়ে সমীক্ষা চলবে। শিশু জন্মের পরে মায়ের খাবার সঠিক পুষ্টির হচ্ছে কীনা, তাও খতিয়ে দেখবে এই টাস্ক ফোর্স।

খতিয়ে দেখা হবে শিশু মৃত্যুর হার, মায়েদের মৃত্যুর হার, মোট গর্ভবস্থা, শিশু লিঙ্গের অনুপাত প্রভৃতি বিষয়। এই টাস্ক ফোর্সে থাকছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জয়া জেটলি। নীতি আয়োগের সদস্য বিনোদ পাটিল, পরিবার ও স্বাস্থ্য কল্যাণ মন্ত্রক, মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রক, বিদ্যালয় শিক্ষা মন্ত্রকের সচিবরা। এছাড়াও থাকবেন নাজমা আখতার, বসুধা কামাথ ও দীপ্তি শাহের মতো ব্যক্তিত্ব।

এদিকে, ইউনিসেফ জানিয়েছিল আগামী ৬মাসে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হতে পারে। প্রতিদিনের স্বাস্থ্য পরিষেবা পাচ্ছে না শিশুরা বলে দাবি করেছিল ইউনিসেফ। ল্যান্সেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউনিসেফ জানাচ্ছে আগামী ৬ মাসে ১১৮টি দেশ জুড়ে ২.৫ মিলিয়ন শিশুর মৃত্যু হতে পারে। এদের প্রত্যেকের বয়স পাঁচ বছরের নীচে।

শুধুমাত্র শিশুমৃত্যু নয়। আগামী ছয় মাসে মৃত্যু হতে পারে ৫৬,৭০০ জন মায়েরও। স্বাস্থ্য পরিষেবা সঠিকভাবে না পাওয়ার জন্যই এই মৃত্যু হতে পারে বলে খবর। ইউনিসেফের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর হেনরিটা ফোর জানান, এই প্রথম সারা বিশ্ব জুড়ে এত শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। করোনার জেরে রোজকার স্বাস্থ্য পরিষেবা পুরোপুরি বিঘ্নিত। স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে শিশুদের।

ইউনিসেফ জানায়, করোনার জেরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে মানুষের কাছে টাকার অভাব। সব মিলিয়ে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প