নয়াদিল্লি: সামনেই একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এবার পেট্রোপণ্য়ের দাম কমাতে উদ্যোগী কেন্দ্র। সূত্রের খবর চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই মাসের শেষেই নির্বাচন। সেকথা মাথায় রেখেই পেট্রোল ও ডিজেলের দামে রাশ টানতে পারে সরকার। ছাঁটা হতে পারে ট্যাক্স।

জ্বালানি তেলের দাম এখন আকাশ ছুঁয়েছে। বিরোধী দলগুলির ক্ষেত্রে এটি হয়ে উঠেছে অন্যতম হাতিয়ার। অনেকেই পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আক্রমণ শাণাচ্ছে। ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিজেপি। জ্বালানির রিটেলারদের ক্ষেত্রেও দাম শিথিল করার কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও ব্রেন্ট ক্রুড তেল এখনও ব্যারল প্রতি ৭০ টাকাই রয়েছে। ৯ দিন ধরে পেট্রোল পাম্পগুলিতে তেলের দাম অপরিবর্তিত। গত কয়েক মাস ধরে ক্রমশই বাড়ছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। রাজস্থান ও মধ্য প্রদেশ সহ কিছু রাজ্যে তেলের দাম লিটার প্রতি ১০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। দেশে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৮০ টাকায়।

তেলের কর কেন্দ্র ও রাজ্য দুক্ষেত্রেই লাভদায়ী। বছরে এই কর থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যের ৫.৫ লক্ষ টাকা আয় হয়। করোনার জন্য গত এক বছরে আয় তলানিতে ঠেকেছে। অনেকেই মনে করছেন তেলের দাম বাড়িয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাইছে কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্বেও দেশে পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হল জ্বালানির ওপর কেন্দ্রের চাপানো অতিরিক্ত সেস এবং অন্তঃশুল্ক। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারগুলির বসানো শুল্কও রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন সরকার রাজস্ব আদায়ের হাতিয়ার করেছে জ্বালানিকে। এদিকে গত কয়েক মাস ধরে ভারতীয় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় সরকার বাজেটেও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নানা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। তবে এবার পেট্রোল-ডিজেলের লাগাতার দামবৃদ্ধি সব সম্ভাবনার পথকেই অবরুদ্ধ করে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

বিরোধীরা পেট্রোল-ডিজেলের দর নিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদে নামলেও এতদিন তাতে খুব একটা কাজ হয়নি। দিনের পর দিন মহার্ঘ্য হয়েছে জ্বালানি। ক্ষোভ বেড়েছে মানুষের। অন্যদিকে জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে ট্রান্সপোর্টে খরচও। ফলে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও। সরকার তার ক্ষতির অঙ্ক পুষিয়ে নিতে চাইলেও করোনাকালে এমনিতেই গোটা দেশের আর্থিক অবস্থা ব্যাপকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের অবস্থাও খারাপ। ফলে তেলের দাম বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে মধ্যবিত্তদের। কিন্তু ভোটের আগে আমআদমিকে কোনওভাবেই ক্ষুব্ধ হতে দিতে নারাজ সরকার। তাই চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচনের আগে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে রাশ টানার কথা ভাবছে বিজেপি সরকার।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.