স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের পাঠানো আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দলকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। রাজ্য সরকারকে মঙ্গলবার এই মর্মে নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নর্থব্লকের স্পষ্ট বক্তব্য, আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অসহযোগিতা রাজ্য সরকার বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের (২০০৫) শর্তকে লঙ্ঘন করেছে। রাজ্য সরকার তা করতে পারে না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে বাধ্য রাজ্য।

করোনা সংক্রমিত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসে পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় দল। এনিয়ে অসন্তুষ্ট রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় দল আসার চিঠি পৌঁছনোর আগেই তারা এসে গিয়েছে বলে অভিযোগ রাজ্য সরকারের। এই কেন্দ্রীয় দলের একটি কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কথা। অন্য দলটি যাবে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পঙে। এ ছাড়া আরও চারটি দল গঠন করেছে কেন্দ্র। দু’টি যাবে মহারাষ্ট্রের মুম্বই ও পুণেতে। একটি করে দল যাবে মধ্যপ্রদেশের ইনদওর এবং রাজস্থানের জয়পুরে। এদিন দুপুরে রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা।

গুরুসদয় দত্ত রোডে বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ কার্যালয়ে সেই বৈঠক হয়। এরপরই দক্ষিণ কলকাতা পরিদর্শনে বেরোয় কেন্দ্রীয় দল। কিন্ত এই বৈঠকের আগে রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় দল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অপূর্ব চন্দ্রের অভিযোগ, “অন্যান্য রাজ্যে যে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গিয়েছে, তারা রাজ্য সরকারের সব রকম সহযোগিতা পাচ্ছে।পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন সহযোগিতা করছে না তা আমি বুঝতে পারছি না। “

তিনি বলেন, “আমাদের নবান্ন থেকে বলা হয় লকডাউন চলছে। আমরা যেন না বেরোই।” যদিও, নবান্নের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি এ বিষয়ে। এরপরই সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়ে নবান্নকে চিঠি পাঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব পুণ্যসলিলা শ্রীবাস্তব বলেন, “চারটি রাজ্যে আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছিল। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের সরকার আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দলকে ভরপুর সাহায্য করছে। কিন্তু অসহযোগিতা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।” তাঁর কথায়, “বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এর মূল উদ্দেশ্যই হল রাজ্যগুলিকে সাহায্য করা। কিন্তু তা না মেনে আইন লঙ্ঘন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

কেন্দ্রের দুটি টিমের একটি কলকাতায় বসে রয়েছে দেড় দিন ধরে। অন্য টিম রাজ্য সরকারের সাহায্যের অপেক্ষায় জলপাইগুড়িতে বসে রয়েছে। তাঁদের কোথাও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কোনও স্বাস্থ্য কর্মীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা ঠিক নয়।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই যুগ্ম সচিব আরও জানান, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার আজ ফের চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে ১৯ এপ্রিলের নির্দেশ তারা যেন পালন করে।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ