প্রতীকি ছবি

নয়াদিল্লিঃ  রানিগঞ্জ-আসানসোলের উপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট রাজ্যের কাছে চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আজ শুক্রবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পুরো ঘটনার জন্যে সরকারের ঘাড়েই দায় চাপালেন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ আহির বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।”একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেও তোপ দাগেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে একজন মুখ্যমন্ত্রীর সবসময় নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। সব বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা উচিত হয়নি।”

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। পালটা তৃণমূলের দাবি, রামের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বাংলার মানুষ সব দেখতে পাচ্ছে। কুৎসা-অপপ্রচার করে বাংলাকে কখনও অশান্ত করা যায়নি আগামিদিনেও যাবে না বলে দাবি তৃণমূলের।

প্রসঙ্গত দফায় দফায় গোষ্ঠী সংঘর্ষে রবিবার থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রানিগঞ্জ। ক্রমশ অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে আসানসোল সহ সংলগ্ন এলাকাগুলিতে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রানিগঞ্জে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান আসানসোলের স্থানীয় সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়।

এরপরই নবান্নকে আধাসেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দেয় কেন্দ্র। কিন্তু কেন্দ্রের সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় রাজ্য। সাফ জানিয়ে দেয়, আসানসোল- রানিগঞ্জের পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্য পুলিশই যথেষ্ট। ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় কলকাতা পুলিশের তিন আইপিএসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী। এলাকায় শুরু রুট মার্চ। অন্যদিকে, ঘটনার কয়েকদিন কেটে গেলেও এখনও বেশ কয়েকটি জায়গাতে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।