নয়াদিল্লি: গেরুয়া নিশানায় কি এবার মহারাষ্ট্র? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাওয়ালের মন্তব্যে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। আগেই কর্ণাটকে কুমারস্বামীর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে বেঙ্গালুরুর কুর্সির দখল নিয়েছেন ইয়েদুরাপ্পা। গেরুয়া-ছকে মধ্যপ্রদেশেও টলমল করছে কলনাথের গদি। এবার মহারাষ্ট্রেও উদ্ধবের সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখলের ছক কষেছে পদ্ম-শিবির। খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনডিএ-র জোট শরিক রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়ার প্রধান রামদাস আতাওয়ালের কথায় সেই জল্পনা এখন তুঙ্গে।

২১ কংগ্রেস বিধায়ককে নিয়ে কংগ্রেস ছেড়েছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। দল ছাড়া ওই কংগ্রেস বিধায়কদের মধ্যে মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রিসভার ৬ সদস্যও রয়েছেন। একসঙ্গে ২২ বিধায়ক দল ছাড়ায় মধ্যপ্রদেশে গদিচ্যুত হওয়ার মুখে মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকারের পতন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। মধ্যপ্রদেশে কমলনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা মধুর ছিল না জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার। একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সমালোচনাও করতে দেখা গিয়েছে জ্যোতিরাদিত্যকে। সম্প্রতি শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করেন জ্যোতিরাদিত্য।

প্রকাশ্যে মধ্যপ্রদেশে ভোটের আগে কংগ্রেসের দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথকে নিশানা করেন এই তরুণ রাজনীতিবিদ। তখন থেকেই মিলেছিল ইঙ্গিত। জ্যোতিরাদিত্য দল ছাড়তে পারেন বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলায় জ্যোতিরাদিত্যের সমালোচনাও করেছিলেন কংগ্রেস নেতারা। মধ্যপ্রদেশ সরকারের এক মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শও দিয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্যকে। তবে কোনও কথাতেই আর আমল দেননি জ্যোতিরাদিত্য। রাজ্যসভার ভোটের আগে ইস্তফা দিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন কংগ্রেসকে।

এদিকে, এই ঘটনার পরেই রাজ্যপালের কাছে তাঁদের মন্ত্রিপদ খারিজের আবেদন জানান মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। তাঁর সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতও বলে জানান। এরপরই মধ্যপ্রদেশের মতো ঘটনা মহারাষ্ট্রেও ঘটতে চলেছে বলে মন্তব্য করেন রামদাস আতাওয়ালে। তিনি বলেন, ‘শিবসেনার অনেক বিধায়ক মহারাষ্ট্রের মহা বিকাশ আগাড়ি জোট সরকারের কাজে খুশি নন। এর ফলে মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক ভূমিকম্পও হতে পারে। আমার মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি উদ্ধব ঠাকরে এবিষয়ে নিজের মনোভাব বদলাবেন। তারপরই কংগ্রেস ও এনসিপির সঙ্গে জোট ভেঙে যাবে শিব সেনার। ক্ষমতা হারাবে উদ্ধব ঠাকরের সরকার।’