পশ্চিম মেদিনীপুর : পশ্চিম মেদিনীপুরে সংঘর্ষ কবলিত পাঁচকুড়ি এলাকা পরিদর্শনে গেলে কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরণের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। তবে তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি মুরালিধরন জানান, পশ্চিম মেদিনীপুরে নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষে আক্রান্ত মানুষদের বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন। সেই বাড়ি থেকে ফেরার সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে তৃণমূল দুষ্কৃতীরা আক্রমণ চালায়। তবে তৃণমূলের তরফে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর সঙ্গে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা ছিলেন। তিনিও আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর গাড়ির চালক।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর বলেছিলেন, “রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষ কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কাউকে আইন ছাড়বে না।” তবে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করার পরও ২৪ ঘন্টা কেটে গেল, তাও রাজ্যের সংঘর্ষ কমছে না।

এদিকে এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো আছে। বিজেপি আগে তাদের পরাজয় স্বীকার করুক। কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর গাড়িতে পশ্চিম মেদিনীপুরে ইট মারার ঘটনা আসলে আদি বিজেপি ও নব্য বিজেপি-র সংঘাতের ফল। এই জায়গায় দিলীপ ঘোষ গেলে এরকম ঘটনা ঘটতো না।”

এদিকে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্যে নির্বাচনের পর ঘটতে থাকা সংঘর্ষ থামানোর কোনও প্রয়াসই নেই। আমাদের কর্মীদের খুন করা হচ্চরে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গাড়িতে ইট মারার ঘটনা ঘটল।”

তবে কোনো ভাবেই রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এবার বিজ্রেপির তরফে জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ করেছেন, “সংঘর্ষ কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আক্রান্ত হতে হচ্ছে। এর পরেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক আছে।”
বাবুল সুপ্রিয় কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর গাড়ির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, “রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনা রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যর্থ।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “এটা রাজ্য নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাস। যে রাজ্যে কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর নিরাপত্তা নেই, সেই রাজ্যয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারে যে হুমকি দিয়েছিলেন এটা তারই জের। পুলিশ কী করছে?”

এদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে বলা জানা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী নির্দিষ্ট সুরক্ষা বলয়ে থাকেন তার পর তাঁর গাড়িতে কী ভাবে ইট মারা হতে পারে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনের আগে আমরা একই রকম ভাবে ২০২০-র ডিসেম্বরে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা-র গাড়ির ওপর হামলার ঘটনা দেখেছিলাম। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বৃহস্পতিবার আবার ঘিওত্তে দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুরে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.