কলকাতা : আজ রবিবার ফের দমদম সেন্ট্রাল জেলে উত্তেজনা। ফের আগুন, ফের গুলি। এদিন দুপুরে সিআইডির একটি তদন্তকারী দল আসে ঘটনাস্থলে। তদন্ত শেষে ওই দলটি চলে যাওয়ার পর ফের উত্তেজনা তৈরি হয় জেলে। সূত্রের খবর, কয়েদিদের মধ্যে কারও কাছে আপত্তিজনক কোনও জিনিস রয়েছে কি না, তা খুঁজতে তৎপর হন কারারক্ষীরা । এর পরেই কারারক্ষীদের সঙ্গে বচসা বাধে কয়েদিদের একাংশের ।

সূত্রের খবর, সংশোধনাগারের ভিতর কয়েদিরা আগুন লাগিয়ে দিলে পালটা গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশ । ঘটনায় ফের বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এছাড়া আরও অভিযোগ, মহিলা সেলের ভিতরে ঢুকে তাদের মারধর করা হয়। জেলের ভিতরে গতকালের পর আজও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। চলে গুলিও। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে রবিবারের ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র।

উল্লেখ্য, শনিবার দমদম সেন্ট্রাল জেলে কয়েদি ও জেলকর্মীদের সংঘর্ষে চার বন্দির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের নাম আফতাব আনসারি, কমলেশ সিং, শেখ ফিরোজ ইসলাম । এদের মধ্যে তিনজনেই এনডিপিএস কেসে বিচারাধীন ছিলেন। তিনজনই টিটাগর থানা এলাকার বাসিন্দা।সংঘর্ষে গুরুতর জখম অন্তত ১০ জন। শনিবার বেলা ১২টা থেকে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার। করোনা আতঙ্কে রাজ্যের প্রায় সমস্ত আদালত বন্ধ। ফলে বিচারাধীন বন্দিদের আদালতে পেশ করা যাচ্ছে না।

এমনকী সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের প্যারোলে ছাড়তে চাইছেন না জেল কর্তৃপক্ষ। উপরন্তু করোনা সংক্রান্ত সতর্কতায় বাড়ির লোকেদের সঙ্গেও বন্দিদের দেখা করার সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমণ দানা বাঁধছিল। এদিকে বন্দিরা বিদেশি সাজাপ্রাপ্তদের আলাদা অন্যদিকে মাস্ক-সহ পরিচ্ছন্নতার দাবিতে সরব হয়েছিল তারা। এদিন শেষপর্যন্ত ক্ষোভে ফেটে পড়েন কয়েদিরা। জেলকর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়।

আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বেলা গড়াতেই শুরু হয় বোমাবাজি। এমনকী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে তারা। সংঘর্ষে তিন বন্দির মৃত্যু হয়। তবে পুলিশ সূত্রে দাবি, এক বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু ঘিরে নতুন করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে বন্দিরা। এছাড়াও অভিজিৎ নামে আরেক আসামি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার পায়ে গুলি লেগেছে। এদিকে জেলের বন্দিদের কাছে কীভাবে বোমা, গুলি পৌঁছল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ