স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: খাদ্যনিগম ভবন (এফসিআই) এর অফিস দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে সরিয়ে নিচ্ছে কেন্দ্র। জেলার সদর শহর বালুরঘাটে অবস্থিত এই অফিসটি এবার মালদহতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদিকে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে জেলায়। ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারের নিকট ডেপুটেশনও দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষের দাবি, ২০১৫ সালে যখন প্রথম এই ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করেছিল কেন্দ্র। তখন তিনি তার প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলেন। যে কারনে তখন পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল কেন্দ্র। ফের বালুরঘাট থেকে এফসিআই অফিসটি সরিয়ে নেওয়ার তোরজোর শুরু হলেও বর্তমান বিজেপি সাংসদ তার বিরোধিতা করছেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

কৃষি প্রধান জেলা দক্ষিণ দিনাজপুর। বেশ কয়েক দশক আগে চাল সংগ্রহ ও কৃষকদের সুবিধার্থে অবিভক্ত পশ্চিম দিনাজপুর নামক এই জেলার বালুরঘাটে স্থাপিত হয়েছিল ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া(এফসিআই)র অফিস। সম্প্রতি বালুরঘাটে অবস্থিত এই অফিসটিকে মালদহতে স্থানান্তরিত করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যা নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের শুরু হয়েছে ক্ষোভ। ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ঘোষনা করা হয় য, তিনটি পর্যায়ে এফসিআই’এর পশ্চিমবঙ্গ রিজিওনের সাতটি ডিভিশনাল অফিসকে তুলে নিয়ে অন্য ডিভিশনের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। দুর্গাপুর, মুর্শিদাবাদ ও কলকাতার একটি ডিভিশন অফিসকে আগেই তুলে নেওয়া হলেও বাকি ছিল পশ্চিম দিনাজপুর ডিভিশন।

সম্প্রতি বালুরঘাটে অবস্থিত এই অফিসকে তুলে নিয়ে তা মালদহ ডিভিশনের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় জেলায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি নির্ভর এই জেলা থেকে এফসিআই অফিস তুলে নেওয়া হলে কৃষি ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ার পাশাপাশি সমস্যায় পড়বেন কৃষকরাও বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এফসিআই তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ।

অন্য দিকে বালুরঘাটের বিজেপির সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, যেহেতু অফিস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ২০১৫ সালের। সুতরাং এখন বিষয়টি আটকানো মুশকিল। তিনি এইবিষয়ে উল্টে প্রাক্তন সাংসদের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রথম যখন এই নির্দেশিকা জারি হয়েছিল তখন অর্পিতা ঘোষ এইব্যাপারে কোনও প্রতিবাদ করেননি । যে কারনে এখন আর সেইভাবে কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে অফিস না তুলে নেওয়ার ব্যাপারে ওই সাংসদ কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন।