নয়াদিল্লি : সিএএ- নিয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সিএএ নিয়ে কেন্দ্রের জবাব তলব করল সর্বোচ্চ আদালত। এই চার সপ্তাহে সমস্ত মামলার উত্তর খুঁজে রাখতে হবে কেন্দ্রকে। তারপর নতুন শুনানির তারিখে সমস্ত মামলার উত্তর দিতে হবে সরকারকে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আর কোনও নতুন আবেদনও নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। আপাতত তাই বুধবারের শুনানিতে কোনও নির্দেশিকা দিল না সর্বোচ্চ আদালত।

নয়া আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে ১৪০ মামলার শুনানি হয় এদিন। সিএএ মামলা সর্বোচ্চ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চে যেতে পারে বলে শুনানির প্রথমে জানিয়েছিলেনপ্রধান বিচারপতি বোবদে। আইনজীবী ও সিএএ মামলার অন্যতম আবেদনকারী কপিল সিবাল এদিন আদালতে বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যেই সিএএ নিয়ে চূড়ান্ত রায় জানাবে আদলত। সেই তিন মাস এনপিআর কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক।’ কেন্দ্রের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল বেণুগোপাল বলেন, ‘১৪৩ আবেদনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে ৬০টি আবেদনের বিষয়ে জানানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে বাড়তি সময় চাই।’ প্রধান বিচারপতি জানান, কেন্দ্রের বক্তব্য না শুনে সিএএ-এর উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না।

সুপ্রিম কোর্টে ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে শুনানির জন্য প্রথমবার আবেদন জমা পড়ে। আবেদন জমা পড়ার পরই কেন্দ্রকে নোটিশ দিয়ে বিষয়টি জানায় দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার সিএএ বিষয়ক মোট ১৪৪টি মামলা উঠতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টে। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ ও কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দায়ের করা মামলাও রয়েছে। জানা গিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত এই আবেদনগুলি জমা পড়েছে। বেশিরভাগ মামলাকারীই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করেছেন শীর্ষ আদালতে।

ভারতের তিন প্রতিবেশী দেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, পার্সি, ও খ্রিস্টানদের ভারতের নাগরিকত্ব দিতেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের জেরে দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের কোনওভাবেই সমস্যা পড়তে হবে না বলে বারবার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরা।

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে শুরু থেকেই কেন্দ্র-বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সিএএ-র বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলনে সামিল হয়েছে রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন। কেন্দ্রীয় আইনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন দেশের বুদ্ধিজীবীদের একটি বড় অংশ। কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব-সহ একাধিক রাজ্য নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করবে না বলেও সাফ জানিয়েছে।

ইতিমধ্যেই কেরল ও পঞ্জাব বিধানসভায় নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে। কেরল ও পঞ্জাবের পথেই হাঁটতে চলেছে বাংলাও। সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এরাজ্যের বিধানসভাতেও নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রস্তাব পাশ করানো হবে। আগামী ২৭ জানুয়ারি বিধানসভার সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাশ করানোর কথা জানিয়েছেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।