স্টাফ রিপোর্টার, মহিষাদল: দেখতে দেখতে কেটে গেল বাঙালির উৎসবের পাঁচটা দিন। বাঙালি নবমীর নিশি না পোহাতে চাইলেও এক সময় রাত কেটে শুরু হয় নতুন প্রাতের। যা ঘোষণা করে দশমীর বার্তা। মায়ের এবার কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পালা। আবার শুরু হবে বছরভর অপেক্ষার। আনন্দ হাসি উত্তেজনার মধ্য দিয়ে কোথা থেকে যেন একটা ঘোরের মধ্যে দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি চলে গেল পুজো। এখন কান পাতলেই শোনা যাবে বিসর্জনের সুর। কুমোরটুলি থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তা গত কয়েকমাসের প্রস্তুতি কর্মব্যস্ততার অবসান ঘটল আজ। আবার শুরু হয়ে যাবে রুটিনমাফিক জীবনের ছন্দে তালে তাল মিলিয়ে চলার।

মহানগর থেকে শুরু করে জেলাস্তরে একটু খোঁজ রাখলেই শোনা যাবে পুজো উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে আলোক সজ্জার শিল্পীদের পাততাড়ি গোটানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আবার কোথাও কোথাও প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজও সেরে ফেলেছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। সব মিলিয়ে গমগমে পুজো মণ্ডপগুলিতে এখন বিষাদের সুর ভরে উঠছে। বনেদি বাড়ি থেকে পাড়ার পুজো মণ্ডপ সব জায়গায় চলছে প্রতিমা নিরঞ্জনের তোরজোড় এবং মহিলাদের সিঁদুর খেলা। আর এই বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে বিষাদের সুর ভরে উঠলো ঐতিহ্যবাহী মহিষাদল রাজবাড়িতেও। জানা গিয়েছে, মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো ২৪১ বছরের প্রাচীন।

আদি রীতি নীতি ঐতিহ্য মেনে পুজো পর্ব চলে এই রাজবাড়িতে। পুজো মিটে যাওয়ার পর অর্থাৎ দশমীতে রাজবাড়ির সদস্যদের মধ্যে রয়েছে পরিবার পরিজনদের সঙ্গে মিলেমিশে সিঁদুর খেলার নিয়ম। জানা গিয়েছে, দশমীর সন্ধ্যায় রাজ পরিবারের মহিলাদের সিঁদুর খেলাকে কেন্দ্র করে বেশ ভিড় জমে রাজবাড়িতে। সূত্রের খবর, আশে পাশের জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আট থেকে আশি সকল বয়সের প্রমিলারাই এই পুজোয় অংশ নেন। সঙ্গে চলে মিষ্টিমুখ এবং কোলাকুলির পর্বও। জানা গিয়েছে, দশমীর সিঁদুর খেলার অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজবাড়িতে ভীড় জমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।

শুধু তাই নয় রাজবাড়ির মহিলা সদস্যদের সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে চলে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর্ব। জানা গিয়েছে, রাজপরিবারের সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ, শৈর্য প্রসাদ গর্গ সহ রাজবাড়ির অন্যান্য মহিলা সদস‍্য সহ আশে পাশের গ্রামের বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে রাজবাড়ির গোপাল জিউয়ের মন্দির সংলগ্ন রাজ পুস্করিনিতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে আর পাঁচটা পুজোর মত জমজমাট ভাবেই শেষ হল বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব তথা মহিষাদলের রাজবাড়ির শারদ উৎসব।