কলকাতা: ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। ঠিক যেমন মনের মানুষ থাকুক বা না থাকুক আজ ভালোবাসা দিবস। শুক্রবারের ঝলমলে আকাশ জুড়ে শুধুই যেন ভালোবাসার সুর। কারণ, আজ যে ভ্যালেন্টাইনস ডে। শহরের অলিগলিতে একটু কান পাতলেই শোনা যাবে ভালোবাসার কথা।

উইল ইউ বি মাই ভ্যালেনটাইনস। ঠিক এমনই এক ছবি ধরা পড়ল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয়। যাত্রার প্রথম দিনই মেট্রোর মধ্যে সঙ্গীকে প্রেম নিবেদন করলেন এক যুবক। যা এখন রীতিমতো নেটপাড়ায় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেটিজেনদের কাছ থেকে শুভেছার বন্যায় ভাসছে ঐ যুগল।

১৩ ফেব্রুয়ারি শুভ উদ্বোধন হয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর। আর ভ্যালেন্টাইনস ডে থেকেই ছয়টি স্টেশনের মধ্যে শুরু হয়েছে সাধারণকে নিয়ে মেট্রোর সফর সূচি। এই যাত্রার প্রথমদিনই যাত্রীদের গোলাপ উপহার দিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। হাসি মুখে রেল যাত্রা করছেন যাত্রীরা। আর ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোয় সফরের প্রথম দিনই অধিকাংশ যাত্রীই মজেছে সেলফিতে। তবে তারই মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়লেন এক যুগল।

মেট্রোর একটি ফাঁকা কামরার মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসে হাতে গোলাপ নিয়ে প্রেমিকাকে ভালবাসার কথা জানালেন তিনি। প্রকাশ্যে এভাবে প্রেম নিবেদন হয়ত প্রত্যাশিত ছিল না। তাই খানিকটা লজ্জা পেয়ে যান ঐ তরুণী। তবে পরক্ষণেই মুচকি হেসে বুঝিয়ে দিলেন প্রস্তাবে তিনি রাজি। সেই মিষ্টি মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে খোদ মেট্রো রেলওয়ে। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে তাঁরা। এরপরই দেখা যায়, মেট্রো সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে সেলফিও তুলছেন তাঁরা।

বিশেষ এই দিনটি উদযাপনে মেতে উঠেছে শহরবাসি। সেন্ট্রাল পার্ক, সিটি সেন্টার-সহ বিভিন্ন জায়গায় ভিড় লাভ বার্ডসদের। বিভিন্ন রেস্তরাঁগুলির বাইরেও লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। অনেকে আবার সল্টলেক থেকে সোজা নিক্কো পার্ক, নিউটাউন, ইকো পার্কেও যাচ্ছেন প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে।

তাই মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, প্রথম দিনেই তাঁরা ভাল যাত্রী পাবেন। মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছিল, এদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ২০ মিনিট অন্তর চলবে এই মেট্রো। পরে যাত্রীর সংখ্যা বাড়লে রেকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

পাশাপাশি কমিয়ে আনা হবে দু’টি মেট্রো চলাচলের ব্যবধানও। প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন গার্ড, স্ক্যানার মেশিন, স্বয়ংক্রিয় টোকেন কাউন্টার, লিফ্ট সমেত অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে নয়া এই মেট্রো রুটে। ফলে এক দিকে যেমন নিরাপত্তা নিয়ে অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন যাত্রীরা, তেমনই যাত্রাও হবে স্বচ্ছন্দ ও আরামদায়ক।