স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: শেষ হয়েছে দুর্গা পুজো। লক্ষ্মী পুজোও। আর হাতে গোনা কয়েকদিন পরেই শুরু হয়ে যাবে বাঙালির আরেক উৎসব। আলোর উৎসব। চলতি সপ্তাহের শেষে শুরু হবে দীপাবলি এবং কালীপুজো।

পুজো নিয়ে এখন সবার মধ্যেই ব্যস্ততা তুঙ্গে প্রায়। কারন শ্যামা পুজোর তিনদিন নিজের এবং প্রিয়জনের অন্দরমহল আলোকিত করার জন্য বাজারে দোকানিরা এখন নানা ধরনের টুনিলাইটের পসরা সাজাতে ব্যস্ত। সবার মধ্যেই এখন এক অন্যধরনের ব্যস্ততা কাজ করছে। আর এই ব্যস্ততায় পিছিয়ে নেই তাঁরাও, যাদের জীবনে আলোর প্রবেশ মানা। জন্মের পর থেকেই যারা পৃথিবীর আলো-আঁধারি পরিবেশের সৌন্দ্যর্য্যের স্বাদ থেকে বিরত থেকেছে।

হ্যাঁ তাঁদের কথাই বলছি। জন্ম থেকেই যারা দৃষ্টিহীন, চোখে দেখতে পাইনা কেউ। এখন এরাই নিজেদের জীবনের অন্ধকারের কথা ভুলে অন্যদের জীবনে আলোর দ্বীপ জ্বালতে তৈরি করছে নিজেদের হাতে মোমবাতি। জানা গিয়েছে, ওইসব অন্ধ, দৃষ্টিহীনদের তৈরি করা মোমবাতির সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ৪৫ হাজারের কাছে। জানা গিয়েছে, তাঁরা এই বছর কালীপুজোয় প্রায় ৫০ লক্ষ মোমবাতি প্রস্তুত করতে উদ্যোগী হয়েছে।

এই সব দৃষ্টিহীন শিল্পীদের ঠিকানা হল, হলদিয়ার চৈতন্যপুর বিবেকানন্দ মিশন আশ্রমে। জানা গিয়েছে, এই আশ্রমের আবাসিক দৃষ্টিহীনদের তৈরি মোমবাতিতে এবারও সাজবে দীপাবলির সন্ধ্যা। দৃষ্টিহীনদের শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের কাজে যুক্ত বিবেকানন্দ মিশন আশ্রমের এই দেওয়ালি উপহার দুই মেদিনীপুর ছাড়িয়ে পাশের হাওড়া, হুগলি জেলার মানুষের মনেও ভীষণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

সূত্রের খবর, শুধু মোমবাতি তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকেনা ওরা। এর পাশাপাশি বছরভর চলে রান্নার মশলা, খাতাপত্র, ঝাঁড়ু–সহ নানান জিনিসপত্র তৈরি করার কাজ। যা ওই দৃষ্টিহীন পড়ুয়ারা নিজের হাতে করে থাকে। কিন্তু কালীপুজোর প্রাক্কালে শুধুই মোমবাতি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।

এখন তাদের হাতের তৈরি সেই মোমবাতির আলোয় সেজে উঠবে গৃহস্থের ঘর। চৈতন্যপুর থেকে কুকড়াহাটি যাওয়ার পথেই অবস্থিত এই আবাসিক আশ্রম। আর সেখানেই এখন মোমবাতি তৈরিতে ব্যস্ত আশ্রমের ১২ জন দৃষ্টিহীন আবাসিক। আর কয়েকদিন পরেই আলোর উৎসব দীপাবলি। এখন আশ্রমে গিয়ে দেখা গেল দৃষ্টিহীনরা তাদের হাতের জাদুতে বানাচ্ছেন একের পর এক মোমবাতি। ছোট, বড় এবং মাঝারি মিলে ইতিমধ্যে এবার ৫০ লক্ষ মোমবাতি তৈরি করবেন তারা। ৪৫ হাজার প্যাকেট মোমবাতি বাজারেও পৌঁছে গেছে। এখন শেষ মুহূর্তের বাজার ধরার জন্য ব্যস্ততা তুঙ্গে।

আশ্রমের কর্মকর্তারা জানান, ‘‌দুই মেদিনীপুর ছাড়িয়ে প্রতিবেশী বিভিন্ন জেলায়ও যায় আশ্রমের দৃষ্টিহীনদের তৈরি মোমবাতি। খরচ বাদে মোমবাতি বিক্রি তৈরির সমস্ত লভ্যাংশ দৃষ্টিহীনরাই পায়’।