স্টাফ রিপোর্টার, মহিষাদল: ‘বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা, কারা যে ডাকিল পিছে, বসন্ত এসে গেছে।’ হ্যাঁ সত্যিই বসন্ত এসে গিয়েছে। আকাশে বাতাসে পলাশ শিমুলের গন্ধ যেন তারই প্রমাণ দিচ্ছে। আর ঋতুরাজ এই বসন্ত মানেই রঙিন হওয়ার দিন, প্রিয়জনকে রাঙিয়ে দেওয়ার দিন। আগামী ৯ মার্চ সোমবার দোল পূর্ণিমা। রঙিন হওয়ার দিন। আর এই দোল পূর্ণিমাকে সামনে রেখে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল আয়োজন করছে বসন্ত উৎসবের।

মহিষাদলের প্রেস কর্নারের উদ্যোগে আয়োজিত এই বসন্ত উৎসব এবছর এগারো বছরে পা দিল। ফলে বসন্ত উৎসবকে সবদিক থেকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলতে এক সপ্তাহ আগে থেকেই আসরে নেমে পড়েছে মহিষাদল প্রেস কর্নার। মঙ্গলবার খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে বসন্ত উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়।

এই বিষয়ে প্রেস কর্নারের তরফে জানানো হয়েছে, মহিষাদল রাজবাড়ির ‘আম্রকুঞ্জ’ প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই বসন্ত উৎসবে প্রতি বছরের মত এবছরও অসংখ্য মানুষের ঢল নামবে। বসন্তের নানা রঙে রঙিন হয়ে উঠবে রাজবাড়ির আম্রকুঞ্জের রাস্তা। ফলে আয়োজনে যাতে কোনও খামতি না থাকে সেই বিষয়ে সদা সতর্ক রয়েছেন উদ্যোক্তারা। আগামী সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে আয়োজন করা হয়েছে নানা ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকবে নাচ, গান এবং কবিতার আসর।

শুধু তাই নয়, মহিষাদল প্রেস কর্নার আয়োজিত মহিষাদল বসন্ত উৎসব এখন জেলার মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই উৎসব। গত ১০ বছর ধরে যেভাবে মানুষের ঢল দেখা দিয়েছে, তাতে করে ‘দ্বিতীয় শান্তিনিকেতনে’ পরিনত হয়েছে এই জায়গা। মহিষাদল রাজবাড়ির আম্রকুঞ্জ, প্রাচীন রাজবাড়ি, গোপালজিউয়ের মন্দির, রাজবাড়ি বড়বড় ঝিল, ত্রিবেনী সঙ্গম সহ একাধিক সুন্দর পরিবেশের মাঝে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মহিষাদলের এই বসন্ত উৎসব।

গত ১০ বছরের পরম্পরা মেনেই চলছে এই বসন্ত উৎসব। দোলের দিন সকাল থেকেই খোল, করতাল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র নিয়ে প্রভাত ফেরির মধ্যদিয়ে মহিষাদল রাজবাড়ির আম্রকুঞ্জের রাস্তা রাঙা হয়ে ওঠে রঙ বেরঙের আবিরে। নাচ, গান ও কবিতায় সারাটা দিন জমজমাটি থাকে এই আম্রকুঞ্জ। গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সামিল হয়েছে এই বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠানে। এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন সতর্ক থাকবে। পর্যটকদের যেন কোনও রকম হয়রানির শিকার না হতে হয়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে পুলিশ প্রশাসন। এছাড়াও এখানে আগত পর্যটকদের জন্য থাকবে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা।