স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা। ভাতৃ দ্বিতীয়ায় ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করে বোনেদের এই রীতি চিরাচরিত দৃশ্য। তবে ভাইফোঁটা নয় এবার এর উল্টো পথে গিয়ে বোন ফোঁটা করে মালদহ শহরবাসীকে তাক লাগিয়ে দিলেন এই জেলার এক অধ্যাপিকা। শহরের প্রানকেন্দ্রে মালদহের উঠোনে গুরু পূর্ণিমার পুন্যলগ্নে বোনফোঁটার আয়োজন করেন অধ্যাপিকা সুদেষ্ণা মৈত্র। উদ্দেশ্য, সমাজের কঠিন নিয়মে বন্ধুদের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া সৌহার্দ্য আবার নতুনভাবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা।

একবিংশ শতাব্দীর দোর গোড়াতেও নানা রকম অত্যাচার, কন্যা ভ্রুণ হত্যা, ধর্ষণ সহ বিভিন্ন রকমের অত্যাচারের শিকারও হচ্ছেন মেয়েরা। তারপরে রয়েছে বিভিন্ন টিভি সিরিয়ালে পারিবারিক হিংসার রগরগে কাহিনী যার জেরে সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে পরিবারের মধ্যেও। বোনেরা অনেক সময় অন্যের জন্য উপবাস করে তাদের মঙ্গল কামনা করে। অথচ তাদের মঙ্গল কামনায় কেউ এগিয়ে আসেনা। সেই ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে মালদহ মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপিকা সুদেষ্ণা মৈত্র এদিন বোন ফোঁটার আয়োজন করেন।

তিনি বলেন, ভাই ফোঁটায় ভাইদের মঙ্গল কামনা করা হয় যে ভাবে ঠিক সেই ভাবেই বোনেদের মঙ্গল কামনায় মঙ্গলবার বোনফোঁটার আয়োজনা করা হয়। সেই মত, সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা পোষ্ট করে গুরুপূর্ণিমা তিথিতে মালদহ শহরে বোনফোঁটার আয়োজন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ভাইফোঁটার মত চন্দন, শিশির, কাজল,গোমুত্র,দই-মিষ্টি এবং লুচি সহযোগে সাজিয়ে বোনেদের মঙ্গল কামনা করে বোন ফোঁটা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন – শবরীমালা থেকে রাফাল জেট, একের পর এক ‘হাই প্রোফাইল’ মামলার রায়

এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অধ্যাপিকা সুদেষ্ণা মৈত্র বলেন, আমাদের সমাজের কোনও শাস্ত্রে এই রকম নিয়ম লাল হরফে লেখা নেই যেখানে মেয়েরা মেয়েদের দীর্ঘায়ু, মঙ্গল কামনা করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, কেন মেয়েরা মেয়েদের কাছে টেনে নিচ্ছে না বা তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করছে না। এটাই তাঁদের মূল ভাবনা। মেয়েরা নাকি মেয়েদের শত্রু এই নিয়ে সমাজে একটা ভুল কথার প্রচলন আছে।

তিনি আরও বলেন, মেয়েরা যে মেয়েদের শত্রু নয়। তারা যে তাদের মঙ্গল চাই। তার জন্যই এই বোন ফোঁটার আয়োজন করা হয়েছে। টিভি সিরিয়ালে বোন বোনদের ক্ষতি করছে এটা অসম্ভব। কখনই সঠিক হতে পারে না। আমাদেরও দিদি বোন আছে আমরা কারও ক্ষতি করি না। তাই এই বোনেদের মঙ্গল কামনা করে এদিন বোন ফোঁটার আয়োজন করা হয়েছে।