কলকাতা: এঁদের মধ্যে কেউ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, কেউ বা তাঁর বিরোধী শিবিরের লোক বলে চিহ্নিত৷ তবে সর্বোপরি তাঁরা সমাজের এলিট মহলের মানুষ বলেই গণ্য৷ সেইসঙ্গে অবশ্যই সেলেব্রিটিও৷ এই নতুন সরকারের কাছে সেই সেলেবদের কী প্রত্যাশা, তা দেখে নেওয়া যাক-

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়(সাহিত্যিক):শান্তি আসুক। দ্বন্দ্ব বন্ধ হোক। সামাজিক গণ্ডগোল বন্ধ হোক। গত পাঁচ বছরে  মমতা চমৎকার কাজ করেছেন। তবুও পশ্চিমবঙ্গ আজ সমস্যা সংকুল রাজ্য। মমতা অবশ্য খাটতে জানেন। আশা করছি তাঁর হাত ধরে রাজ্য আরও এগিয়ে যাবে।

লকেট চট্টোপাধ্যায়(অভিনেত্রী): অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেত্রী৷ সদ্য বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমে ময়ূরেশ্বর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি৷ নতুন সরকারের কাছে তাঁর আর্জি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মেয়েদের নিরাপত্তায় আরও জোর দেওয়া হোক৷ লকেট বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা৷ তাই প্রথমেই ওনার কাছে মহিলাদের নিরাপত্তা আশা করব৷ এছাড়া, রাজ্যে অসংখ্য বেকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এবার শিল্প নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবা উচিত৷ রাজ্য সরকারের উচিত, উন্নয়নের স্বার্থে তাদের জমিনীতি বদনানো৷ সরাসরি সরকারকে জমি অধিগ্রহন করতে হবে৷ তা না হলে কোনও শিল্পপতি আগ্রহ দেখাবে না৷ শিক্ষাকে দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে৷ চাকরীর পরীক্ষায় আগে সত্যিকারের মেধাকে সু়যোগ করে দিতে হবে৷ ঘুষ দিয়ে যেন যে কেউ সেই সুযোগ না পায়৷

রুদ্রনীল ঘোষ(অভিনেতা): ইন্ডাসট্রিয়াল গ্রোথ নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছে৷ আমি মনে করি, প্রতিটা রাজ্যের শিল্প-বানিজ্য সেই রাজ্যের নেচার অনুযায়ী বেড়ে ওঠে৷ পশ্চিমবঙ্গ কৃষি নির্ভর রাজ্য৷ তাই আমি চাই মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি নিয়ে আরও ভাবনা-চিন্তা করুন৷ গোটা বিশ্বের কাছে এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টের খুব চাহিদা রয়েছে৷ আমার মনে হয়, এদিকে নজর দিলে পশ্চিমবঙ্গে এগ্রিকালচার বেসড শিল্পের ভবিষ্যত খুব উজ্বল হবে৷

জুন মালিয়া(অভিনেত্রী): মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত পাঁচবছরে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন৷ তবে আমার হয়  আমার মনে হয়, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ, শিল্পের প্রতিটা ক্ষেত্রেই বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন৷ তাহলে কর্মসংস্থানের পথ আরও মসৃণ হবে৷ যদিও সেই কাজ অলরেডি শুরু হয়ে গিয়েছে৷

সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়(অভিনেতা): সুমন এবারের নির্বাচনে মালদহের ইংরেজ বাজারে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন৷ নতুন সরকারের কাছে তাঁর আর্জি, পাড়ায় পাড়ায় তোলাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসন যেন কড়া পদক্ষেপ গ্রহন করে৷ সুমন বললেন, একটা স্বচ্ছ সরকার চাই৷ যে সরকার তোলাবাজি বন্ধ করবে৷ রাজ্যে শিল্পের হাল ফেরাতে সরকার জমিনীতি বদলাক৷ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ, আমাদের ফিল্ম ইন্ডাসট্রিতে যেন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়৷

সুবোধ সরকার(কবি): এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হলেন। কাকদ্বীপ থেকে কোচবিহারের মানুষ তাঁকে যে ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছে আমি তাকে প্রণাম জানাই। যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে গত সাড়ে চার বছরে(পাঁচ বছর সময় উনি পাননি) তা বিধান রায়ের পরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই প্রথম দেখল। আগামী পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গ সোনার বাংলা হয়ে উঠুক আমি এই প্রত্যাশা করি।

নবনীতা দেবসেন(সাহিত্যিক): যে কোনও নাগরিকের মতো আমিও চাই সরকার আমাদের পাশে থাকুক। স্বপ্ন পূরণ করুক। সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাক।

আরও পড়ুন:

১. মমতার নতুন মন্ত্রিসভা: একনজরে

 

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।