লখনউ: ক্লাস টু এর ছোট্ট ছাত্রকে জুতো পেটা করল তার প্রাইভেট টিচার৷ এর পর তাকে বলা হল হাসতে৷ পাশবিকতার এই সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে৷ উত্তর প্রদেশের আলীগড়ে ঘটা এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷

সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে৷ ছোট্ট ছাত্রকে পড়াতে এসেছিল তার গৃহশিক্ষক৷ সেখানেই তাকে চপ্পল খুলে বেধড়ক মারা হল৷ শিক্ষক চলে যাওয়ার পর ঘটনাটি দেখতে পান ওই শিশুর বাবা মা৷ ছেলের পড়ার ঘরের CCTV ফুটেজ চেক করতে গিয়ে থমকে যান তাঁরা৷ একরত্তি ছেলের উপর এরকম অত্যাচারে রীতিমত অবাক হয়ে যান৷

একটি রিপোর্টে জানা গিয়েছে এর আগেই ছেলেকে গায়ে নীল নীল দাগ দেখে বাবা মা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন গায়ে এভাবে রক্ত কী করে জমল? ছেলে জানায় তার গৃহশিক্ষক তাকে মেরেছে৷ এরপরই সিসিটিভি ফুটেজ চেক করতে গিয়ে হতভম্ব হয়ে যান তাঁরা৷

এক সংবাদ সংস্থাকে সিনিয়র পুলিশ অফিসার আশুতোষ দ্বিবেদী জানিয়েছেন “ভিডিওটি উদ্ধার করা হয়েছে৷ একটি কেসও রেজিস্টার করা হয়েছে৷ আমাদের একটি দল ওই শিক্ষককে ধরার চেষ্টা করছে৷”

পাঁচ মিনিটের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায় ওই গৃহশিক্ষক ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্র পাশাপাশি দুটি চেয়ারে বসে রয়েছে৷ গৃহশিক্ষকের পায়ে চপ্পল ছিল সেই জুতো উঠে এসেছিল তার হাতে৷ চপ্পল দিয়ে বেধড়ক পেটানো হল ওই শিশুকে৷ একের পর এক জুতোর ঘা পড়তে থাকে তার শরীরের এদিক ওদিকে৷ এমনকি তার হাতে ছিল চাবির রিং৷ তাতে ধারালো বস্তুও ছিল৷ সেটিকেই আঙুলের মাঝে নিয়ে তা দিয়ে মারা হতে থাকে ওই শিশুটিকে৷ শুধু তাই নয় শিক্ষক তার মাথার চুল টেনে কান টেনে পিঠে সজোরে চিমটি কেটে মারেই চলে৷ এই সব যে রেকর্ড হচ্ছে সিসিটিভিতে তা গুনাক্ষরে টের পায়নি ওই শিক্ষক৷ তাই পরপর পাশবিকতার প্রমাণ রাখতে থাকে৷

এরপর ওই শিশুটিকে এক গ্লাস জল খেতে জোর করে এবং বাধ্য হয়ে সেকাজ করার পর গৃহশিক্ষক তাকে বলে এবার হাসো৷ বেধড়ক মারের পর হাসতে বাধ্যও করা শিশুকে৷ এসব ভিডিওতে দেখার পরই শিশুর বাবা মা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন৷