কাভারাট্টি- সামুদ্রিক প্রাণী সি কিউকাম্বার ও তার চামড়ার অবৈধ পাচার রোখার ভার নিল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন। ওয়াইল্ড লাইফ অ্যাক্টের ভিত্তিতে এই দায়িত্ব নিয়েছে সিবিআই। লাক্ষাদ্বীপের বন বিভাগের থেকে সিবিআই এই দায়িত্ব নিয়েছে। সমুদ্রের একদম তলায় এই সামুদ্রিক প্রাণীর উপস্থিতি মেলে। ওয়াইল্ড লাইফ অ্যাক্টে অনুযায়ী এটি একটি বিপন্ন প্রাণী।

চিন, জাপান-সহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে সি কিউকাম্বারের চাহিদা যথেষ্ট। এই দেশগুলিতে সি কিউকাম্বার কাঁচা অথবা শুকিয়ে খাওয়ার চল রয়েছে। ওষুধ প্রস্তুতিতেও তৈরি এই সামুদ্রিক প্রাণী ব্যবহার করা হয়। ওয়াইল্ড লাইফ অ্যাক্টের ভিত্তিতে চার জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই চারজনের বিরুদ্ধে ৪৬টি জীবন্ত সি কিউকাম্বার শিকার করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ১৭৩ টি সি কিউকাম্বারের চামড়া পাচার করার অভিযোগও রয়েছে।

লক্ষদ্বীপের প্রবাল দ্বীপ সুরক্ষিত রাখার জন্য এই সি কিউকাম্বার খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও বাঘ যেমন জঙ্গলের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে, তেমনই সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র রক্ষার ব্যাপারে এই সি কিউকাম্বার খুব জরুরি। জানিয়েছে সিবিআই। লাক্ষাদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার এই পাচারকারী দলগুলির খোঁজ করছে ও তদন্ত চালাচ্ছে। ১০ জানুয়ারি এই ঘটনার এফআইর দায়ের হয়।

অভিযোগ, কয়েকটি মাছ ধরার নৌকো এই সামুদ্রিক জীব সংগ্রহের কাজে লাগানো হচ্ছে। এগুলিকে সুহেলি চেরিয়াকারা দ্বীপ, কারা সিরি কারা দ্বীপের স্থানীয় ভাষায় কোকা বলা হয়। এই তথ্যের উপর নির্ভর করে পুলিশ দফতর, মৎস দফতর ও পরিবেশ দফতরের আধিকারিকদের একটি দল দ্বীপে যান ১১ জানুয়ারি। এর পরে দ্বীপের পশ্চিম দিকে খাইবার ২ নামে একটি ফিশিং বোটে ৪ জন ধরা পড়ে।

তাদের নাম সালমুনাল ফারিস, ইরফানুদ্দিন, রমেশ খান ও মহম্মদ আলি কোডিপালি। এরা চার জনেই লাক্ষাদ্বীপের বাসিন্দা। ফিশিং বোটটি পাকড়াও করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন ধৃতরা জানায় তারা মাছ ধরতে এসেছে। কিন্তু নৌকার তল্লাশি করে দেখা যায় ৯৮টি সাদা সি কিউকাম্বার নুন মাখিয়ে ভরা রয়েছে ব্যাগে এছাড়াও আরও ৭৪টি কালো মরা সি কিউকাম্বার উদ্ধার করে আধিকারিকদের দল।

এর পরে ফিশ ট্যাঙ্ক থেকে ৪৬টি জীবন্ত সি কিউকাম্বার উদ্ধার করেন তাঁরা। পুরো নৌকোটি মোটা ১৭১টি মৃত ও ৪৬টি জীবন্ত সি কিউকাম্বার সমেত উদ্ধার করা হয়। জীবন্ত সি কিউকাম্বারগুলিকে সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প