স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সারদা তদন্তে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ৷ তারই মধ্যে নারদকাণ্ডে তদন্তের গতি বাড়াতে তৎপর সিবিআই৷

বৃহস্পতিবার সকালে নিজাম প্যালেসে তলব করা হয়েছে নারদ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত আইপিএস এসএমএইচ মির্জাকে৷

এর আগেও অভিযুক্ত এই আইপিএসকে জিজ্ঞাবাদ চালায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দ সংস্থার আধিকারিকরা৷ তদন্ত গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে বেশ কিছু নতুন তথ্য৷ যার ভিত্তিতে ফের জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: ঈদের জমায়েতে মুখ্যমন্ত্রীর গলায় ‘জয় বাংলা’, ‘জয় ভারত’ ধ্বনি

নারদা আর্থিক লেনদেনে ম্যাথু স্যামুয়েলকেও জেরা করে সিবিআই৷ তাঁর বয়ানের সঙ্গে আইপিএস মির্জার থেকে পাওয়া তথ্যের গড়মিল রয়েছে বলে দাবি সিবিআই কর্তাদের৷ যা নিয়ে স্পষ্ট হতে চাইছেন গোয়েন্দারা৷ তাই মনে করা হচ্ছে ম্যাথু স্যামুয়েলের দেওয়া বয়ানকে সামনে রেখেই এসএমএইচ মির্জাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে৷

নারদা ভিডিওতে সরাসরি পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছে বর্ধমানের প্রাক্তন পুলিশ সুপার এসএমএইচ মির্জাকে। কি কারণে, তিনি ওই টাকা নিয়েছিলেন? ম্যাথুর সঙ্গে কিভাবে যোগাযোগ হল? শাসকদলের এক প্রথম সারির নেতার সঙ্গে তাঁর কি যোগ রয়েছে? এছাড়া, টাকার লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্নও রয়েছে সিবিআই গোয়েন্দাদের কাছে।

আরও পড়ুন: ‘তন্ময় স্যারের’ মৃত্যুতে দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি নিয়ে শোকমিছিলে ছাত্রছাত্রীরা

প্রসঙ্গত, নারদকাণ্ডে দেখা গিয়েছিল কলকাতার প্রাক্ত ডেপুটি মেয়র ইকবাল আহমেদকেও৷ ইতিমধ্যেই ইকবালকে এক দফা জেরা করেছে সিবিআই। তাঁর বয়ানের ভিত্তিতেই এর আগে মির্জাকে তলব করা হয়েছিল। ইকবালের বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় মির্জার বয়ান। ম্যাথুর সঙ্গে কতবার দেখা হয়েছিল? মির্জা আদৌ স্টিং অপারেশনের ব্যাপারে কিছু জানতেন কিনা, কে ম্যাথুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, সেসবও খতিয়ে দেখা হয়। স্টিং অপারেশনে যে পাঁচ লক্ষ নিতে দেখা যায়, তার বাইরে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কিনা সেটাও জানার চেষ্টা করছে সিবিআই।

২০১৬ সালে ফাঁস হয় নারদ কেলেঙ্কারি৷ পরে তাঁকে বারাকপুরে রাজ্য পুলিশের ব্যারাকপুর স্পেশাল স্ট্রাইকিং ফোর্সের কমান্ডিং অফিসার করা হয়। কিন্তু একটি ঘুষ মামলায় তাঁর অধস্তন এসআই সৌভাগ্য দাসকে বরখাস্ত করেছিলেন। ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সৌভাগ্য দাস গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর তাঁর স্ত্রী সোনামণি দাস পুলিশ কর্মকর্তা মির্জার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বরখাস্ত করা হয় াইপিএস এসএমএইচ মির্জাকে৷