স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল সিবিআই। সিবিআই-এর তরফে তাঁকে এখনও কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি সুশান্তবাবুর।

২০১৫ সালে সুশান্তের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সে সময়ে সংগীত ভবনের একাধিক পদে যোগ্যতা না থাকার পরেও বেশ কয়েকজনকে নিয়োগ করা হয়ে বলে অভিযোগ। সেবছর শীতকালীন অধিবেশনে রাজ্যসভায় বিশ্বভারতীর অন্দরে দুর্নীতির কথা তুলে ধরেন কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য৷ এর পরই উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয় স্মৃতি ইরানির মন্ত্রক৷

তাঁর বিরুদ্ধে কমিটির আনা অভিযোগের ভিত্তিতে দত্তগুপ্তকে শো-কজ নোটিশ পাঠানো হয়৷ কিন্তু তাঁর জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্র৷একইসঙ্গে বিশ্বভারতী থেকে বেতন ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেনসন তোলার অভিযোগ রয়েছে দত্তগুপ্তর বিরুদ্ধে৷ যা বেআইনি৷

এছাড়াও নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগ করা অভিযোগও ওঠে প্রাক্তন উপাচার্যের বিরুদ্ধে৷ কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক তিন সদস্যের এই কমিটি প্রায় ছ’মাস পরে তাদের রিপোর্ট জমা দেয়।

আর্থিক অনিয়ম ছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদ সৃষ্টি, যৌন হেনস্থার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ ওঠে উপাচার্যের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সুশান্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বরখাস্ত করে মন্ত্রক।

বরখাস্ত হওয়ার পরে অবশ্য সুশান্ত দাবি করেছিলেন, পুরোটাই সাজানো ছিল। ওই কমিটি তাঁর কথা শোনেনি। সিবিআই সূত্রের বক্তব্য, দু’বছর আগে দত্তগুপ্তের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছিল। তাতে পাওয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের হয়েছে।

এই বিষয়ে সুশান্ত দত্তগুপ্ত সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গে জানিয়েছেন, কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই যে তদন্ত করছিল, তা বছর দুয়েক পর কোর্টের সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কোনও চার্জশিট হয়নি।

তবে, ফের এফআইআর সম্পর্কে তিনি এখনও কিছু জানেন না। সুশান্তবাবু বলেন, “সিবিআই-এর তরফে আমাকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর হয়েছে, তা-ও জানি না।”

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।