কলকাতা: বদলির নির্দেশ পাওয়ার পরই তাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন এক সিবিআই আধিকারিক৷ নারদ তদন্তের তদন্তকারী আধিকারিক রঞ্জিৎ কুমারকে কলকাতা থেকে বদলি করা হয়েছে৷ এরপরই তিনি ই-মেল করেন সিবিআই অধিকর্তা ঋষিকুমার শুক্লকে৷ যদিও সিবিআই সূত্রে খবর, এটা রুটিন বদলি৷

বদলির নির্দেশকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পাল্টা সিবিআই অধিকর্তাকেই চিঠি দিলেন নারদ তদন্তের তদন্তকারী এক আধিকারিক। ওই আধিকারিক ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, ‘স্টেশন’ পরিবর্তন অর্থাৎ কলকাতা থেকে দিল্লি বা অন্য কোনও শহরে বদলি করার ক্ষেত্রে সাধারণ ভাবে ১০ বছর ঊর্ধ্বসীমা ধরা হয়। অর্থাৎ ১০ বছরের বেশি কোনও আধিকারিক কোনও শহরে কর্মরত থাকলে তাঁকে কর্তৃপক্ষ অন্য শহরে পাঠাতেই পারেন, বদলি করে। কিন্তু সিবিআই আধিকারিক রঞ্জিৎ কুমার কলকাতায় ৮ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন৷

এছাড়া সারদা ও রোজভ্যালি মামলার আরও তিন আইওকে বদলি করা হয়েছে৷ কলকাতা অফিস থেকে ৪ তদন্তকারী অফিসারকে ভিন রাজ্যে বদলি করা হয়৷ তবে তাদের জায়গায় কে আসছেন,তা এখনও জানা যায়নি৷

সিবিআই সূত্রে খবর, সারদা মামলার আইও তথাগত বর্ধন এবং নারদ মামলার আইও রঞ্জিৎ কুমারকে বদলি রা হয়েছে দিল্লিতে৷ এছাড়া রোজভ্যালি মামলার ২ আইওকে বদলি করা হয়েছে ভুবনেশ্বরে৷ এরা হলেন,ব্রতীন ঘোষাল ও সোজম শেরপা৷ কলকাতা থেকে যে সব তদন্তকারী অফিসারদের ভিন রাজ্যে বদলি করা হয়েছে,তারা দীর্ঘদিন ধরে সারদা, নারদা ও রোজভ্যালি মামলার তদন্ত করে আসছিলেন৷

এর আগে নতুন বছরের শুরুতেই বড়সড় রদবদল হয়েছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ে৷ কলকাতা রিজিওনে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি বদল করা হয়েছিল৷ তাদের মধ্যে ছিলেন দু’জন এসপি এবং একজন এএসপি পদমর্যাদার অফিসার৷ সেই সময় দেশজুড়ে মোট ১৯ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছিল৷

সিবিআই জানিয়েছিল, কলকাতায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার শাখা থেকে দু’জনকে বদলি করা হয়েছে৷ কলকাতার ইকোনমিক অফেন্স উইংস-৪ এর এসপি পার্থ মুখোপাধ্যায়কে বদলি করা হয়েছে দিল্লি হেড কোয়ার্টারে এআইজি (পলিসি) পদে৷ তাঁর জায়গায় আসেন এসপি পদমর্যাদার শান্তুনু কর৷ তিনি কলকাতাতেই কর্মরত ছিলেন৷

পাশাপাশি এসপি পদমর্যাদার আধিকারিক জয়নারায়ণ রানাকে ভুবনেশ্বর থেকে কলকাতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও এএসপি পদমর্যাদার সঞ্জয় সিনহাকে দিল্লি থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়৷ সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা কেন্দ্ৰীয় অনুসন্ধান সংস্থার (সিবিআই) দাবি,এটি একটি রুটিন বদলি৷ তাদের আরও দাবি, এই বদলির আগেও সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন চিটফান্ড মামলার তদন্তে তৎপর ছিল,আগামীদিনেও একইভাবে তৎপরতা থাকবে৷