কলকাতা: কয়লা কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরাকে নোটিস পাঠাল সিবিআই। রবিবার শহর কলকাতায় অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছেছেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। তাঁদের সন্দেহ রুজিরার অ্য়াকাউন্ট থেকে কয়লা কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কিছু ট্রানজাকশন হয়েছে। এই নিয়ে রুজিরাকে জেরা করতে চায় সিবিআই।

রুজিরার পাশাপাশি তাঁর বোন এবং অভিষেকের শ্যালিকা মেনকা গম্ভীরকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁর আনন্দপুরের বাড়িতে নোটিস পাঠিয়েছেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা।

সিআরপিসি আন্ডার সেকসন ১৬০-তে নোটিস দিয়েছে সিবিআই। এদিন যখন সিবিআই আধিকারিকরা অভিষেকের বাড়িতে যান তখন বাড়িতে কেউ ছিল না। ফলে দরজায় নোটিস লাগিয়ে আসে কেন্দ্রীয় এই গোয়েন্দা সংস্থা। ওই নোটিসে আধিকারিকদের মোবাইল নম্বর দেওয়া রয়েছে। নোটিস অনুযায়ী রুজিরাকে তলব করেনি সিবিআই। তাঁকে সাক্ষী হিসেবে জেরা করতে চেয়ে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসে আধিকারিকদের মোবাইল নম্বর দিয়ে বলা হয়েছে ওই নম্বরে যেন অবশ্যই রুজিরা যোগাযোগ করেন। রবিবারের মধ্যেই রুজিরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় বলে জানিয়েছে সিবিআই।

বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যে কয়লা ও গরু পাচারকাণ্ডে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই। বারবার নোটিস দিয়ে ডেকে পাঠানোর পরে হাজিরা না দেওয়ায় বেআইনি কয়লা পাচার মামলার মূলচক্রী লালা বা অনুপ মাজিকে ‘ফেরার’ ঘোষণা করেছিল আসানসোলের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। একই তকমা দেওয়া হয়েছিল লালার অন্যতম সহযোগী রত্নেশ ভার্মাকে। গত ১১ জানুয়ারি ৮২ ধারায় এই মর্মে একটি নোটিস জারি করেছিলেন আসানসোল সিবিআই আদালতের বিচারক জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। নোটিসে বলা হয়, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দুজনকেই আসানসোল সিবিআই আদালতে হাজিরা দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে হাজিরা না দিলে, আইন মোতাবেক তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

দিন দুই আগে লালার শ্বশুরবাড়ি সহ আরও ১৩টি জায়গায় তল্লাশি চালায় সিবিআই৷ সেইসঙ্গে লালার সন্ধানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাঁর আত্মীয়স্বজনদের৷ আসানসোলে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে লালার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়েছে সিবিআই। বছরের পর বছর ধরে কয়লাপাচার করে বিপুল সম্পত্তি হয়েছে লালার। এ রাজ্য়ের পাশাপাশি ভিনরাজ্যে লালার সম্পত্তি রয়েছে। লালার সব সম্পত্তির তালিকা আদালতে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মানহানির মামলায় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সমন পাঠিয়েছে আদালত। বিধাননগরে বিধায়ক-সাংসদদের জন্য গোড়া একটি বিশেষ আদালতের মহামান্য বিচারক এই সমন পাঠিয়েছেন অমিত শাহকে। আদালতের তরফে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় অমিত শাহ অথবা তাঁর প্রতিনিধিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ঠিক আগের দিন অভিষেকের স্ত্রীকে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.