কলকাতা : নারদকাণ্ডে সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায় আদালতে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন। টিকলো না সিবিআই-র দাবি। সিবিআই-র স্পেশাল আদালতে এই রায় দেওয়া হল। আড়াই ঘণ্টা রায় দান স্থগিত রাখার পর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়। সিবিআই-র আবেদন খারিজ হয়ে তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি মান্যতা পায়। আদালত জানায় এদের কাউকে গ্রেফতার করে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। বিচারক অনুপম মুখোপাধ্যায় এই জামিনের রায় দেন। তবে সিবিআই উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আদালত এদিন রায় দিয়েছে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে জেল হেফাজতে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। সিবিআই-র প্রভাবশালী তত্ত্বে এদের জেল হেফাজতে নেওয়ার দাবি টিকলো না। সিবিআই-এর আইনজীবী এদিন আদালতে সওয়াল করার সময় বলেন, এই চারজনকে জামিনে ছাড়লে এরা মামলার তথ্য সরাতে পাবেন। তাই এদের সিবিআই হেফাজতে রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। কারণ এরা প্রভাবশালী।

অন্য দিকে অভিযুক্তদের তরফে তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, করোনা সংক্রমণ রুখতে কলকাতা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক। কাজেই এই সময় তাঁকে জামিন দেওয়ার জন্য আবেদন করা হচ্ছে। প্রায় ৪৫ মিনিট এই মামলার শুনানি চলে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় এদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।

ফিরহাদ হাকিম (Firad Hakim) , সুব্রত মুখোপাধ্যায় (Subrata Mukherjee) , মদন মিত্র (Madan Mitra) ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে(Sovon Chattapadhyay) আদালতে সশরীরে হাজির করা হবে না বলে সিবিআই জানায় । তাদের ভার্চুয়ালি (Virtual Production) ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানো হয়। তবে হিয়ারিং আদালতে হয় । কিন্তু অভিযুক্তদের ভার্চুয়ালি কোর্টে প্রোডাকশন করা হয় ।

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০টা ৪৭ মিনিটে নিজাম প্যালেস পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বেআইনি ভাবে তৃণমূলের মন্ত্রী-বিধায়কদের সিবিআই গ্রেফতার করেছে। তাই তাঁকেও সিবিআই-র (CBI) গ্রেফতার করতে হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে সিবিআই দফতরের সামনেই তৃণমূল সমর্থকরা প্রবল ভাবে বিক্ষোভ দেখান। এই পরিস্থিতিতে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিজাম প্যালেস থেকে বার করে আদালতে নিয়ে যেতে সিবিআই অফিসারদের বাধার মুখে পড়তে হবে। কারণ ইতিমধ্যেই তৃণমূল সমর্থকরা বলেছেন, নিজাম প্যালেস থেকে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্রকে তাদের শরীরের ওপর দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে বুঝেই সিবিআই আধিকারিকরা ভার্চুয়ালি এই চারজনকে আদালতে হাজির করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

আমরা দেখেছি নিজাম প্যালেসের বাইরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ইট-পাথর নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন। রাজভবনের সামনেও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ করছেন। তাই সিবিআই অফিসাররা এদের আদালতে সশরীরে হাজির করানোর ক্ষেত্রে বাধা পাবেন।

এদিকে এই প্রসঙ্গে আইনজীবীরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন খুব প্রয়োজন না হলে কাউকে গ্রেফতার করার প্রয়োজন নেই। তাই প্রশ্ন আসছে ২০১৬ সাল থেকে যে মামলা চলছে তাতে এই করোনা সংক্রমণের তীব্রতার সময় কেন কোনও নোটিশ না দিয়ে এই চারজনকে  সকালে বাড়ি গিয়ে সিবিআই তুলে আনতে গেল? আর এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে সিবিআই চাইবে রাজ্যের বাইরে নিয়ে গিয়ে এই চার জনের মামলা শেষ করতে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা যদি শান্ত না হন তাহলে সমস্যা অন্যদিকে যেতে পারে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.